বিনোদন

‘গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি একজন দিমাগি নকশাল’: নাসিরুদ্দিন শাহ

বিনোদন ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধীদের দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা বন্ধ না হলে দেশের যুবসমাজের মনোবল ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ছাত্র বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিওতে ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে পরিচয় দেন এই অভিনেতা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচকদের কখনো দেশবিরোধী, কখনো ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ বলে চিহ্নিত করার প্রবণতার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি একজন দিমাগি নকশাল।’

নাসিরুদ্দিন শাহের এই বক্তব্য ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তার অভিযোগ, সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

ভিডিও বার্তায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন নাসিরুদ্দিন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং সর্বশেষ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা চাপ ও নিপীড়নের মুখে পড়েছেন। এসব ঘটনার কথা ভবিষ্যতেও মনে রাখা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। ক্যাম্পাসে সহিংসতার অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। গত সপ্তাহেও তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এবার জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

জামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছেন।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে না। ২০০৬ সালের পর থেকে নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট করার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবির প্রসঙ্গ তুলে নাসিরুদ্দিন শাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও প্রতিবাদের সুযোগ অক্ষুণ্ন রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

নিজের বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধেও সমালোচনা করেন অভিনেতা।

তার অভিযোগ, সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্র ভূমিকা রাখছে। সংবাদমাধ্যমের ওই অংশকে ‘গোদি মিডিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মীদেরও সমালোচনা করেন নাসিরুদ্দিন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে ভিডিওতে আলাদা কোনো তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ভিডিও বার্তার শেষ দিকে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে কবিতার আশ্রয় নেন নাসিরুদ্দিন শাহ। আবৃত্তি করেন বিসমিল আজিমাবাদির বিখ্যাত ‘সরফরোশি কি তমন্না’ কবিতার একটি পঙ্‌ক্তি। এরপর প্রতিবাদীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের দমনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তাতে দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কিংবা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা সম্ভব হবে না।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহের এই বক্তব্য নতুন করে সামনে এনেছে ভারতের শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ক।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #নাসিরুদ্দিন শাহ #ভারত #বিনোদন