আন্তর্জাতিক

দুর্নীতি মামলায় ক্ষমার শর্তে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ছাড়ার প্রস্তাব!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী দলীয় নেতা গাডি আইজেনকোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। এরপর রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া এবং চলমান দুর্নীতি মামলায় পূর্ণাঙ্গ ক্ষমা পাওয়ার শর্তে আইজেনকোটের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চ্যানেল ১৪-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ প্রস্তাবিত এই সমঝোতা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবারের অনিশ্চিত সংসদীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জটিলতা কাটাতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে।

চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু এবং ফলাফল ঘোষণার অনেক আগেই গত দুই বছর ধরে এ ধরনের ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। নির্বাচনে দলগুলোর আসনসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলে এই সমঝোতা সরকার গঠনের একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখার স্বার্থে প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে চান নেতানিয়াহু।

তবে এ প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়। প্রস্তাবটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি কখনোই ঘটেনি। সরকার গঠনের দায়িত্ব অর্পণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অনুমানের সঙ্গে আমরা যুক্ত নই।’

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।

অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টির নেতা আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি ও আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি।

এখনো সৈনিক, বন্দি, কূটনীতিক ও চিকিৎসাধীন ভোটারদের বিশেষ ভোট গণনা চলছে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ১৯৯৯ সালের পর দেশটিতে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।

উল্লেখ্য, ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে কয়েক বছর ধরে দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন রয়েছেন নেতানিয়াহু। এ ছাড়া গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।

সূত্র: মিডক ইস্ট আই

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইসরাইল #বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু #গাডি আইজেনকোট