পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি রিফাত বিন সাজ্জাদকে (২৪) দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। দণ্ডিত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ রায় দেন।
পুলিশ জানায়, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলগেট এলাকার একটি স্কুলের পেছনে রেললাইন থেকে গত বছরের ১৪ জানুয়ারি সকালে এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর ক্ষতবিক্ষত ও ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ৮ মার্চ সকালে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকায় ইজিবাইক চুরির অপরাধে রিফাতকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে পুলিশ। পরে তার কাছে থাকা মোবাইলে কিছু অসামাজিক ভিডিও ও ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে রেললাইনে উদ্ধার হওয়ায় তরুণীর মরদেহের ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা পায়।
আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হকের বাদি হয়ে দায়ের করা মামলার এজাহারে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনযোগে পঞ্চগড়ে যাওয়ার পথে দিনাজপুর রেল স্টেশনে ওই তরুণীর সাথে পরিচয় হয় আসামি রিফাতের। পরে বিভিন্ন প্রলোভনে তাকে আটোয়ারীর কিসমতে নেমে রেলগেট এলাকার একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যান আসামি। সেখানে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রিফাত। পরে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে একটি ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর রেখে পালিয়ে যান আসামি।
পরবর্তী সময়ে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণীর মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার আসামি রিফাত বিন সাজ্জাদ আটকের পর মোবাইলে পাওয়া তথ্যে পুলিশের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। এদিকে আসামীর পক্ষে কোন আইনজীবি না থাকায়, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একজন আইনজীবি নিয়োগ করা হয়।
আই/এ