চাঁদপুরে এক নারী কাছ থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ছিনতাই হওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিয়া নূর।
পুলিশ জানায়, গত ৫ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৬ মিনিটে চাঁদপুর বড় রেলওয়ে স্টেশনে ফাতেমা আক্তার চট্রগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে ছিনতাইকারীরা ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতা মো. জাহিদ হোসেন (২১) এবং রাব্বি হোসেন (২৪)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জাহিদ হোসেন চাঁদপুর শহরের শ্রমিক কলোনীর মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে এবং রাব্বি হোসেন শহরের জামতলা এলাকার আব্দুল মালেক কুড়ালির ছেলে।
পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর ভোরে কিশোরগঞ্জ সদর থানার মাইজকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকান্দি গ্রামে এক আসামির বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাহিদ ওরফে গরু জাহিদ (২১) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া নগদ ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জাহিদ ওরফে গরু জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর বড় স্টেশন বরফকল ভিআইপি ঘাটের সিঁড়ির নিচে এবং নদীর পন্টুনের সুড়ঙ্গ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে সাতটি চেইন, পাঁচটি আংটি, চার জোড়া কানের দুল, দুটি রুলি, একটি গলার হার ও একটি ব্রেসলেট। পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মোট ওজন প্রায় ১৮ ভরি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া নূর জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আই/এ