Connect with us

জাতীয়

পণ্যের দাম কমাতে ক্যাবের ১৩ সুপারিশ

Avatar of author

Published

on

পণ্যের

প্রতি বারের মতোই এবারও ঈদের এক মাস আগে থেকেই পণ্য বাজার অস্থিতিশীল। সয়াবিন, পেঁয়াজ, রসুন, জিরাসহ অন্যান্য মসলার দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। পণ্যের দাম লাগামহীন দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভোক্তারা। তাই পণ্যের দাম কমাতে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ‘ঈদকে সামনে রেখে পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশগুলো করা হয়। ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি, সভাপতি এবং সংগঠনের সদস্যরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চিনি, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, রসুন, জিরাসহ অন্যান্য মসলাপাতি ভারতে দাম কম কিন্তু বাংলাদেশে দাম লাগামীহনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে দাম বাড়ানো হয়েছে।

১৩ দফা সুপারিশলো হচ্ছে-

১. পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের বিক্রয়মূল্য দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

Advertisement

২. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য সংগ্রহ, সরবরাহ ও প্রাপ্তি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নিশ্চিত করতে হবে।

৩. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি মূল্য, পাইকারি মূল্য ও খুচরা মূল্য নির্ধারণ করতে হবে ও তা বাস্তবায়নের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতকারীদের জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে ও তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

৫. পেঁয়াজ, রসুন, আদার অধিকতর চাষাবাদের জন্য বীজ, সার ও লাগসই আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের নিকট সহজলভ্য করতে হবে।

৬. সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে সরিষার অধিকতর চাষাবাদের ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া রাইস ব্র্যান অয়েল এর সুলভ মূল্যে উৎপাদন ও ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Advertisement

৭. প্রাণীজ পুষ্টির চাহিদা পূরণে গরুর মাংস সহজলভ্য করার জন্য খামারিদের আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।

৮. পেঁয়াজ, রসুন, আদা, সয়াবিন তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক ছাড় দিয়ে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলার সুযোগ দিতে হবে এবং পণ্য আমদানির পর তা যেন নির্দিষ্ট দামে বাজারে বিক্রি হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৯. সম্প্রতি চিনির দাম বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত চিনিকল মালিকদের সংগঠন গ্রহণ করেছে তা কার্যকর না করে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামেই খুচরা বাজারে খোলা চিনি ও প্যাকেটজাত চিনি বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

১০. বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং করার জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহকে যুগোপযোগী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১১. সড়কে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন হয়রানি বন্ধ করার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

Advertisement

১২. আমদানিকৃত পচনশীল পণ্য স্থল ও নৌ বন্দর হতে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১৩. গরুর মাংসের দাম কমাতে ভারত থেকে ১ লাখ গরু আমদানি করা উচিত।

লিখিত বক্তব্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের বাজারের অবস্থা তুলে ধরে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া জানান─

ভোজ্যতেল:

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদার বিপরীতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় মাত্র ২.০৩ লাখ মে. টন। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ ভোজ্য তেল প্রতি বছর আমদানি করতে হয়। জুলাই ২০২২ হতে মে ২০২৩ পর্যন্ত ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে প্রায় ১৯.৩২ লাখ মে. টন। গত বছর সয়াবিন বীজের আমদানি হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১৪ হাজার মে. টন। ১১ জুন ২০২৩ তারিখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্য তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করে। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে ১০ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১৮৯ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৬৭ টাকা। পাম তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। বাণিজ্য সচিব সে সময় আশ্বাস দিয়েছিলেন আগামী তিন দিনের মধ্যে ভোক্তারা এই দামে তেল পাবেন বাজারে। কিন্তু নতুন দাম নির্ধারণ হওয়ার এক সপ্তাহ পর ১৭ জুন ২০২৩ তারিখে ঢাকার খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৯ টাকার স্থলে ১৯০-১৯৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। খোলা সয়াবিন এখন ১৬৭ টাকার স্থলে ১৭৫-১৮৫ টাকা ও পাম তেল  ১৩৩ টাকার স্থলে ১৩৫-১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে ১৫ জুন ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন সরকার ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রির জন্য। কিন্তু রিফাইনারি ও ডিলার পর্যায়ে বিক্রির দর ঠিক করা হয়নি। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দামে ডিলারদের নিকট হতে ভোজ্যতেল কিনতে হচ্ছে। তাই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তাদের ভোজ্যতেল বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তাঁরা জানান। ফলে ভোক্তারা বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এ কারণে কতিপয় ব্যবসায়ী ভোক্তাদের নিকট হতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। সম্প্রতি সরকার সয়াবিনের আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য সারাদেশে সরিষা চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

Advertisement

পেঁয়াজ:

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে চলতি বছরে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয় আর উৎপাদন হয়েছে ৩৪ লাখ মে. টন। দেশে প্রায় ২৮ লাখ মে. টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। যদিও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭.৫০ লাখ মে. টন। সংরক্ষণকালে ও প্রক্রিয়াজাতকালে ৩৫ শতাংশের মতো পেঁয়াজ নষ্ট হয়। সে হিসাবে দেখা যায়, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদনের সাথে চাহিদার বড় একটি ঘাটতি রয়েছে। ঢাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারের ক্যাবের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন মাস আগে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৫-৪৫ টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য সরকার ০৬ মার্চ তারিখে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়ায় পেঁয়াজ এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে আর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৫২-৬০ টাকায়। ঢাকার শ্যামনগর পাইকারি বাজারে ভারত হতে আমাদিনকৃত পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৩-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিনি:

দেশে প্রায় ২০ লাখ মে. টন পরিশোধিত চিনির চাহিদা আছে। জুলাই ২০২২ হতে মে ২০২৩ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৬৭ হাজার টন চিনি আমদানি হয়েছে অর্থাৎ দেশের চাহিদার তুলনায় সিংহ ভাগ চিনি আমদানি করতে হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১০ মে ২০২৩ তারিখে এক সভায় খোলা চিনি প্রতি কেজি ১২০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজি ১২৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ক্যাবের বাজারদর সংগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় বর্তমানে খুচরা বাজারে খোলা চিনি ১৩০-১৪০ টাকায় ও প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারের নির্ধারিত দামে বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে না। গত বছর খোলা চিনি প্রতি কেজিতে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ গত ১ বছরে খোলা চিনির মূল্য ৫৭ শতাংশের অধিক বৃদ্ধি পেয়েছে। খুচরা বাজারের প্রতিনিধিগণ জানান, পাইকারি বাজার হতে চিনি তাদের অধিক দামে কিনতে হচ্ছে এবং সরকার খুচরা বাজারের মূল্য নির্ধারণ করেছে আমদানি ও পাইকারি পর্যায়ের মূল্য নির্ধারণ করেনি। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীদের সরকারের নির্ধারিত দামের অধিক দামে বাজারে চিনি বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় গত ১৯ জুন ২০২৩ তারিখে চিনিকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সুগার রিফানার্স অ্যাসোসিয়েশন চিনির দাম প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা বাংলাদেশ সুগার রিফানার্স অ্যাসোসিয়েশন চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনকে জানিয়েছে যা ২২ জুন ২০২৩ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। ক্যাব চিনিকল মালিকদের এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, ভোক্তা-স্বার্থ বিরোধী ও অন্যায় বলে মনে করে। ক্যাব ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছে। ক্যাব আশা করে সরকার ভোক্তাদের অবস্থা চিন্তা করে চিনিকল মালিকদের সংগঠনের এই মুনাফালোভী সিদ্ধান্ত কার্যকর না করে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দামেই খুচরা বাজারে খোলা চিনি ও প্যাকেটজাত চিনি বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ করবেন।

রসুন:

Advertisement

ঢাকার খুচরা বাজারে বর্তমানে দেশি রসুন ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন মাস আগেও যা খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ১০০-১৫০ টাকায়। গত এক বছরের তুলনায় দেশি রসুনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৩ শতাংশেরও অধিক।

জিরা:

বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি জিরা ৮০০-৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিন মাস আগে যা ছিল ৫৮০-৬৫০ টাকা। আবার ১ বছর আগে এই সময়ে ছিল প্রতি কেজি গড়ে ৪৮০ টাকা। অর্থাৎ গত এক বছরে ৫৬ শতাংশের অধিক দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

গরুর মাংস:

দেশের বাজারে গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ভারতের কলকাতায় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৬০ রুপিতে যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৪৫ টাকা। ভারতে প্রচুর গরু উৎপাদন করা হয় কিন্তু ধর্মীয় কারণে তাঁরা গরুর মাংস খান না। ফলে ভারতে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ার কারণে দাম কম।

Advertisement

পক্ষান্তরে বাংলাদেশে উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি বলে এখানে গরুর মাংসের দাম বেশি। অর্থাৎ ভারতের তুলনায় প্রতি কেজিতে প্রায় ৪৫৫ টাকা হতে ৫০৫ টাকা বেশি। বাংলাদেশে অতিরিক্ত গরুর মাংসের চাহিদার কারণে এতো দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। চড়া দামের কারণে নিম্ন ও নিম্ন-বিত্ত লোকেরা এখন গরুর মাংস খাওয়ার সামর্থ্য হারিয়েছেন। মাঝারি আয়ের সংসারের রান্নাঘরে গরুর মাংস এখন মাঝে মধ্যে হওয়ায় দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতি বছর কোরবানির গরুর দাম অত্যধিক থাকে। এর কারণ হিসাবে গরুর খামারিরা বলেন, গরু লালন-পালনে খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। গো-খাদ্যসহ অন্যান্য খরচ অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হিসাবে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশে গরুর উৎপাদন ছিল ২ কোটি ৪৭ লাখ। এছাড়া কোরবানিকে উপলক্ষ্য রেখে বিভিন্ন খামারে ও ব্যক্তিগতভাবে অনেক খামারিরা গরু উৎপাদন করে থাকে। আবার দেশীয় গরুর খামার ও চামড়া রক্ষার স্বার্থে সরকার ভারতীয় গরু আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। ফলে দেশীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগানের ঘাটতির কারণে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে বলে গরু ব্যবসায়ীরা জানান।

Advertisement
মন্তব্য করতে ক্লিক রুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন লগিন

রিপ্লাই দিন

জাতীয়

হঠাৎ অসুস্থ খালেদা জিয়া, সিসিইউতে ভর্তি

Published

on

ফাইল ছবি

শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভোররাতে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। শুক্রবার (২১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালটির ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শনিবার (২২ জুন) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

শায়রুল বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। সঙ্গে চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে ম্যাডামকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস ছাড়াও হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। প্রায়ই তাকে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

Advertisement

সর্বশেষ গেলো ২ মে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে যান খালেদা জিয়া। ওই সময় চিকিৎসকরা তাকে সিসিইউতে রেখে দুদিন চিকিৎসা দেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়া এবং দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্তে ২০২০ সালের মার্চে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক কারামুক্তি দেয়া হয়। প্রতি ছয় মাস পরপর বাড়ানো হয় মুক্তির মেয়াদ।

জেএইচ

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

জাতীয়

শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক আজ, গুরুত্ব পাবে যা

Published

on

প্রায় দুই বছর পর আজ শনিবার (২২ জুন)  দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাভাবিকভাবেই এই বৈঠকটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দুই দেশই। এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বেশ কিছু বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একান্তে আলোচনায় বসবেন। দুই প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, সেই বৈঠকে দুই দেশ একাধিক বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হবে। কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও সই হবে। তিনি বলেন, দুই দেশই এই বিশেষ সম্পর্ক আরও গভীর করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যেই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে উৎসাহ দেখিয়েছে চীন। যা ভালো চোখে দেখছে না দিল্লি। জুলাই মাসেই বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা শেখ হাসিনার। এর আগে তার ভারত সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

শেখ হাসিনা ও মোদির বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যহীন বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতার কৌশল বের হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট শতভাগ কার্যকরের সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে জানা গেছে।

Advertisement

এর আগে ২০২২ সালেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে দুদেশের মধ্যে সই হয় সাতটি সমঝোতা স্মারক। কথা হয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মাদক ও মানব পাচার রোধ নিয়েও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের বৈঠকে নির্ধারণ হতে পারে ২০২২ সালের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের বাস্তবতা এবং আগামী ৫ বছরের রূপরেখা। তবে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সফরে চুক্তি সই না হলেও, এ বিষয়ে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান জানাতে পারে ভারত। আসতে পারে বড় ধরনের বিনিয়োগের খবরও।

সরকারি পর্যায়ে ঠিক কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে তা এখনও পরিষ্কার করেননি সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা। যদিও দুই রাষ্ট্র প্রধানের এবারের বৈঠক আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরত্ব পাচ্ছে। হাসিনা-মোদির বৈঠকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যহীন বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতার কৌশল বের হতে পারে।

এদিকে গত শুক্রবার (২১ জুন) নয়াদিল্লির তাজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের শিল্পপতিদের সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ভারতের শিল্পপতিদের আহ্বান জানান।

এর আগে সন্ধ্যায় একই হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। পররাষ্ট্র সচিব বিনয় মোহন কোয়াত্রাসহ দু’দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রায় ঘণ্টাব্যাপি চলে এই সৌজন্য বৈঠক। মূলত শনিবার হাসিনা-মোদি শীর্ষ বৈঠকে যেসব বিষয় উপস্থাপিত হবে, সেসব নিয়েই বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা করেন তারা।

Advertisement

পরে আজ শনিবার (২২ জুন) সকালে নয়াদিল্লির ফোরকোর্টে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। সকাল ৯টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

জেএইচ

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

জাতীয়

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

Published

on

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আবাসস্থলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, আপনারা (ভারতীয় ব্যবসায়ীরা) বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আমরা আপনাদের স্বাগত জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলতেন ‘প্রতিবেশী সবার আগে’ এবং তিনি বাংলাদেশের সব প্রতিবেশী দেশকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার দেন।

বাংলাদেশ ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা সিইওদের বলেন, তারা এটা ব্যবহার করতে পারেন এবং সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন।

Advertisement

বৈঠকে অংশ নেওয়া সিইওরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে চান।

সালমান বলেন, বাংলাদেশে যারা ব্যবসা করছেন তারা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী।

সিআইআই পক্ষের সিইওরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তারা এফবিসিসিআই-এর সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে কাজ করতে চান।

এক্ষেত্রে তারা বিশেষ করে কৃষি, আইটি ও লজিস্টিক সেক্টরে যৌথভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তারা ভারতের বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে আইটি খাতে তাদের সাফল্য তুলে ধরেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাংলাদেশে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চান।

Advertisement

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নিজ দেশে বিরাজমান সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন।

সিইও-রা নন-ট্যারিফ বাধা সম্পর্কেও কিছু বিষয় উত্থাপন করলে এই বিষয়ে সালমান বলেন যে তাদের (সিআইআই) এই প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য তাদের (ভারত) সরকারকে বলতে বলা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফেউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম, নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমদ, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরীসহ কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বৈঠকে অংশ নেন।

Advertisement

এছাড়া আইটিসি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জীব পুরী, সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি, অ্যাপোলো হসপিটালস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারপার্সন শোবানা কামিনেনি, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত মাধব বৈদ্য, ডাবর ইন্ডিয়া লিমিটেডের সিইও মোহিত মালহোত্রা, অমৃত সিমেন্ট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রদীপ কুমার বাগলা, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সিইও (এনার্জি) দীপক অমিতাভ,  সাংখ্য ল্যাবসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং সিওও বিশ্বকুমার কয়ারগাড্ডে, সিটিও এবং তেজস নেটওয়ার্কস লিমিটেডের (টাটা গ্রুপ কোম্পানি) প্রতিষ্ঠাতা ড. কুমার শিবরাজন, সিআইআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল মারুত সেন গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচ

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত