Connect with us

জাতীয়

আজ থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু, নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা

Avatar of author

Published

on

ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। নাড়ির টানে ব্যস্ততম নগর ছেড়ে রেল, নৌ ও সড়কপথে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তারা।

আজ থেকে শরু হয়েছে ট্রেনে ঈদের অগ্রিম টিকিটে ঈদযাত্রা । ঈদ উপলক্ষ্যে ২৮ জুন পর্যন্ত শুধু কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় দেড় লাখ যাত্রী রাজধানী ছাড়বেন। রাজশাহীগামী আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা।

শনিবার (২৪ জুন) সকাল ছয়টার পর আন্তঃনগর ট্রেন ধূমকেতু এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। এরপর নীলসাগর এক্সপ্রেস ঘরমুখো মানুষকে নিয়ে রওনা হয় গন্তব্যে।

এদিকে ১৪ জুন যেসব যাত্রী ২৪ জুনের অগ্রিম টিকিট কেটেছেন তারা আজ রাজধানী ছাড়বেন। এছাড়া শুধু যাত্রার দিন ২৪ থেকে ২৮ জুন কাউন্টার থেকে ২৫ শতাংশ আসনবিহীন টিকিট বিক্রি হবে। আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ২৮ হাজার যাত্রী কমলাপুর থেকে বিভিন্ন স্থানে যাবেন। বিনাটিকিটে ভ্রমণ রোধে কমলাপুরসহ দেশের সব স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শাহ আলম কিরণ শিশির জানান, এবার ঈদে ২৪ থেকে ২৮ জুন প্রতিদিন ৪১ জোড়া আন্তঃনগর এবং ৩৬ জোড়া মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাবে। তবে ইতিমধ্যে মানুষ ট্রেনে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন।

Advertisement

রাজধানীর কমলাপুর থেকে টাঙ্গাইল যাবেন রুবিনা রহমান। থাকেন মোহাম্মদপুরের জাপান গার্ডেন সিটিতে। রুবিনা আরটিভি নিউজকে বলেন, এবার একটু আগে ভাগেই যাচ্ছি। ঈদের ভিড়ের আগেই। বললেন, এখনো তেমন ঈদের আমেজ শুরু হয়নি। হয়তো সরকারি ছুটি শুরু হলেই ভিড় বাড়বে।

এদিকে শান্তির নীড় নৌপথে স্বস্তিতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন দেশের দক্ষণাঞ্চলের মানুষ। তবে শুক্রবার (২৩ জুন) সদরঘাটে যাত্রীদের তেমন ভিড় ছিলনা।

নদীবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী সোমবার অফিস ছুটির পর সদরঘাটে যাত্রীদের চাপ বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, এবার ঈদে ৩০ লাখ যাত্রী নৌপথে যাতায়াত করবেন। যাত্রীদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সঙ্গে নৌপুলিশ, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড। পাশাপাশি রয়েছে স্বেচ্ছাসেবকরা।

জানা গেছে, লঞ্চের অধিকাংশ কেবিন অগ্রিম বুক হয়ে গেছে। তবে গতবারের তুলনায় এবার ভাড়া কিছুটা বেশী বলে অভিযোগ করেন অনেকে।

Advertisement

বরিশালের খালেক মিয়া যাবেন মুলাদী। ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন এবার ডেকের ভাড়াই ৫০০ টাকা। এটা আমাদের মত মানুষের জন্য অনেক বেশী। একটু কম হলে ভাল হতো।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বরিশালগামী লঞ্চগুলোতে ডেক যাত্রীদের ভাড়া ৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১৫০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২৫০০ টাকা ও ভিআইপি কেবিন ৭০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক (ট্রাফিক) কবির হোসেন বলেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ঈদে আগেভাগেই সড়কপথে রাজধানী ছাড়ছেন অনেকেই। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানী ছেড়েছে বিভিন্ন রুটের একাধিক দূরপাল্লার বাস। গাবতলী, সায়দাবাদ, কল্যাণপুর, মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে পদ্মা সেতু হওয়ায় ভোগান্তি ছাড়াই সড়কপথে বাড়ি ফিরছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। আগে পদ্মা পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো ফেরিঘাটে। এখন ৮ থেকে ১০ মিনিটেই পাড়ি দিচ্ছেন পদ্মা সেতু। আর তাইতো মহাখুশি এ অঞ্চলের মানুষ।

Advertisement

সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে কথা হয় মাদারীপুরের তাইমু ইসলামের সঙ্গে। তিনি আরটিভি নিউজকে বলেন, এবার একটু আগে ভাগেই চলে যাচ্ছি। যদিও সড়কের অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভাল। রাস্তায় এবার ভোগান্তি হবে না। তবে সব অফিস ছুটি হলে ভিড় বাড়বে। তখন ভোগান্তি হলেও হতে পারে। এজন্য আগে ভাগেই চলে যাচ্ছি।

Advertisement
মন্তব্য করতে ক্লিক রুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন লগিন

রিপ্লাই দিন

জাতীয়

‘বাংলাদেশি রোগীদের ই-মেডিকেল ভিসা ও রংপুরে সহকারী হাইকমিশন’

Published

on

একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ এক সংবাদ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে চিকিৎসা সেবা নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ই-মেডিকেল ভিসা সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি শিগগিরই বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুরে সহকারী হাইকমিশন খোলার ঘোষণাও দেন তিনি।

শনিবার(২২ জুন) দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর যৌথ এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এসব কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য ভারতে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ই-মেডিকেল ভিসা চালু করবে ভারত। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের সুবিধার্থে রংপুরে নতুন সহকারী হাই কমিশন খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

গত এক বছরে দুই নেতার মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ এই সফরটির বিশেষত্ব হল- এনডিএ(বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট দল- ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) সরকারের তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই ভারতের প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী এসময় আরও বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা ১০ বার বৈঠক করেছি, কিন্তু আজকের বৈঠকটি বিশেষ; কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের তৃতীয় মেয়াদের সরকারের প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি। আমাদের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি, অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি, ভিশন সাগর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক ভিশনের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর আমরা বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। ‘

Advertisement

বার্তা সংস্থা এএনআই লিখেছে, শনিবার রাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠেয় ম্যাচের জন্য দুই দলকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “আজকের ম্যাচের জন্য আমি ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শুভকামনা জানাচ্ছি।”

ঢাকা-দিল্লির দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে তুলে ধরে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ ভারতীয় রুপিতে লেনদেন শুরু করেছে। ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে যাচ্ছে। ’

তিনি বলেন, ‘দুই দেশ পদ্মা চুক্তি নবায়নে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের তিস্তা নদীর সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের জন্যও (ভারতের) একটি কারিগরি দল বাংলাদেশ সফর করবে। ’

আগরতলা দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ষষ্ঠ রেলপথ চালুর কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুলনা-মোংলা বন্দর দিয়ে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে কার্গো সার্ভিস শুরু হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে ভারতীয় রুপির বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা (পদ্মা) নদীর উপর দিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম রিভার ক্রুজ সম্পন্ন হয়েছে। ’

তিনি এসময় আরও বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম আন্তঃসীমান্ত মৈত্রী পাইপলাইন সম্পন্ন হয়েছে। ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি আঞ্চলিক সহযোগিতার উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘

Advertisement

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত ও দিপক্ষীয় বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে  ১০টি সমঝোতা স্মারক ও নথি সই হয়।  এগুলোর মধ্যে রয়েছে-পাঁচটি নতুন সমঝোতা স্মারক সই, তিনটি সমঝোতা স্মারক নবায়নে সই হয়।

এছাড়া, ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্র হিসেবে যৌথ কার্যক্রম হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল অংশীদারিত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা এবং টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সবুজ অংশীদারিত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক নথি সই হয়।

এর আগে, শনিবার সকালে দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নরেন্দ্র মোদি।  সেখানে শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস একটি দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।

ভারতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজই  ঢাকায়  ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গতকাল শুক্রবার দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমআর

Advertisement
পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

জাতীয়

‘জনগণ ও দেশের উন্নতিতে সহযোগিতায় সম্মত ঢাকা-দিল্লি’

Published

on

একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ এক সংবাদ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত

‘বাংলাদেশ ও ভারত  শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণে একটি ‘রূপকল্প ঘোষণা’ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ‘ডিজিটাল অংশীদারত্ব’ এবং ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারত্ব’ বিষয়ক দুটি সমন্বিত রূপকল্পকে সামনে রেখে কাজ করতে আমরা দুপক্ষই সম্মত হয়েছি।’

শনিবার(২২ জুন)  দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর যৌথ এক সংবাদ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘আজ আমাদের দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমরা রাজনীতি ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও যোগাযোগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেন, ‘ ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং আঞ্চলিক অংশীদার। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হওয়া ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বাংলাদেশ সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।’’

এসময় শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং ভারতের জনগণের অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং  ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের যেসব বীর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

Advertisement

যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উভয় দেশ শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে আমাদের দিকনির্দেশনা দিতে ‘ভিশন স্টেটমেন্ট’ সমর্থন করেছে। বাংলাদেশ ও ভারত ‘ডিজিটাল পার্টনারশিপ’ ও ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারত্বের’ জন্য একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে সম্মত হয়েছে।’

চলতি বছরের  ৭ জানুযারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভ করে টানা চতুর্থবার সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরেই চীন সফর রয়েছে। তবে এখনও সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতে শেখ হাসিনার এটি দ্বিতীয় সফর। এর আগে, গত ৯ জুন নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আরও  বলেন, বৈঠকে আমরা অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে রাজনীতি ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সংযোগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, জ্বালানি ও শক্তি এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি। দুদেশের এবং জনগণের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, ‘যেহেতু নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে ঢাকা ও দিল্লি নতুনভাবে পথচলা শুরু করেছে, সে ধারাবাহিকতায় আমরা ‘রূপকল্প ২০৪১’ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুদেশই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়সহ উচ্চপর্যায়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।  ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠান, দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। আমিও ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসেছিলাম। পরবর্তীকালে আমি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র আমন্ত্রিত অতিথি দেশের নেতা হিসেবে নয়াদিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিই। ’

Advertisement

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান এসময় আরও বলেন, ‘এখন আমি এই একই জুন মাসে অভূতপূর্ব দ্বিতীয়বারের মত নয়াদিল্লি সফর করছি। গত ৯ জুন অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার নবগঠিত মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে নয়াদিল্লি সফর করি। এসবই আমাদের এই দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করার প্রমাণ বহন করে।’

এর আগে, সকালে, দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান নরেন্দ্র মোদি। সেখানে শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস একটি দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন।ভারতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজই  ঢাকায়  ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গতকাল শুক্রবার দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমআর//

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

জাতীয়

হাসিনা-মোদির বৈঠক, ঢাকা-দিল্লির ১০ সমঝোতা স্মারক সই

Published

on

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক। ছবি: এএনআই

বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে  বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১০টি সমঝোতা স্মারক ও নথি সই হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার(২২ জুন) সাড়ে ১২টার পর নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তাদের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে-পাঁচটি নতুন সমঝোতা স্মারক সই, তিনটি সমঝোতা স্মারক নবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্র হিসেবে যৌথ কার্যক্রমের দুটি নথিতে সই।

নতুন পাঁচটি সমঝোতা স্মারক হলো-

১. বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সুনীল অর্থনীতি ও সমুদ্র সহযোগিতার বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক;

২.  ভারত মহাসাগরের ওশানোগ্রাফির ওপর যৌথ গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে বাংলাদেশের বিওআরআই ও ভারতের সিএসআইআরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক;

Advertisement

৩. বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগের ওপর সমঝোতা স্মারক;

৪, যৌথ ছোট স্যাটেলাইট প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথোরাইজেশন সেন্টারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং

৫. কৌশলগত ও অপারেশনাল খাতে সামরিক শিক্ষা সহযোগিতায় ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ, ওয়েলিংটন-ইন্ডিয়া এবং মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের মধ্যে সমঝোতা।

নবায়ন করা তিন সমঝোতা স্মারক হলো-

১. মৎস্যসম্পদ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক;

Advertisement

২. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনে ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি ও বাংলাদেশ ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সমঝোতা নবায়ন এবং

৩.  স্বাস্থ্য ও ওষুধ সংক্রান্ত পুরনো খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা নবায়ন।

এছাড়া, ‘ডিজিটাল অংশীদারিত্ব’ এবং ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারিত্ব’ বিষয়ক দুটি সমন্বিত রূপকল্পকে সামনে রেখে কাজ করবে ভারত এবং বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই যৌথ কার্যক্রমের নথি সই করে বাংলাদেশ।

এগুলো হলো--বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল অংশীদারিত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা এবং টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সবুজ অংশীদারিত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক নথি সই।

প্রসঙ্গত,ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শুক্রবার ভারত সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম বারের মতো দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি গেলেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ভারতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। এর আগে, গত ৯ জুন নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Advertisement

এমআর//

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত