আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে মধ্যপ্রাচ্যে: কাতার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা গোটা অঞ্চল ও এর বাইরেও ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে কাতার। ইরানে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমন নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেছে দোহা।

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানী দোহায় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা বাড়লে তা “অঞ্চলজুড়ে এবং এর বাইরেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।”

তিনি উত্তেজনা এড়াতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত বছর জুনে ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যা ছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া।

এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এসব বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সরকার আরোপিত ইন্টারনেট বন্ধের কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে বলেন, যেকোনো সামরিক ও নৌ চলাচল-সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তু ইরানের পাল্টা হামলার বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

উত্তেজনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যায়নি।

মাজেদ আল-আনসারি জানান, শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কাতার আঞ্চলিক দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে আগের তুলনায় ভিন্ন ও তুলনামূলক নরম অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

কাতার অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। দোহা মনে করছে, চলমান সংকট এড়াতে সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর পথ।

 

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন