আন্তর্জাতিক

দুই দিনের বিচারে মৃত্যুদণ্ড, আজ কার্যকর হতে পারে এরফানের ফাঁসি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ এরফান সোলতানিকে মাত্র দুই দিনের বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সেই রায় কার্যকর করা হতে পারে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনাটি ইরানের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

২৬ বছর বয়সি এরফান সোলতানির গ্রেপ্তার ও দ্রুত মৃত্যুদণ্ডের তথ্য প্রথম প্রকাশ করে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস। গেল সোমবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, এত অল্প সময়ে বিচার শেষ করে ফাঁসি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির তারা আগে দেখেনি।

ইরান সরকার এই আন্দোলনকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে।  এদিকে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ওরা যদি এমন কিছু করে, তাহলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।” 

এরফানের বাড়ি তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কারাজ শহরের ফারদিস এলাকায়। গেল বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার নেওয়ার সময় নিজ বাসা থেকেই তাকে আটক করা হয়। এরপর ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর চলমান এই আন্দোলনকে ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হলেও আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয়। গেল ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও অন্তত ১২ শিশু রয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন