আর্কাইভ থেকে এশিয়া

লাদাখ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে ফের অস্বস্তি

লাদাখ  নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে ফের অস্বস্তি
'চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিম অংশটি সর্বদা চীনের অন্তর্গত ছিল। তা পরিবর্তন হবার নয়।’ এভাবেই জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলো চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং একথা বলেন। গত ১১ ডিসেম্বর যুগান্তকারী রায়ে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল বহাল রাখে দেশটির সুপ্রিমকোর্ট। সংবিধানের ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ম বহির্ভূত নয় বলেও জানিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। শুধু তাই নয়,ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে-লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর দুটি রাজ্যের  মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর আসছে বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়োজন করতে হবে নির্বাচনের।ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সোমবার এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লাদাখ প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র । ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  মুখপাত্র বলেন,‘কাশ্মীর নিয়ে ভারতের ও পাকিস্তানের মধ্যে বিতর্ক চলছে। দুই দেশকে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসতে হবে। জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা দরকার। কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আনা প্রয়োজন। এই বিষয়ে চীনের অবস্থান আগে যা ছিল এখনও তাই আছে।’ এরপরই প্রকাশ্যে আসে লাদাখ নিয়ে চীনের মতামত। লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মাও নিং  বলেন, ‘চীন কখনই ভারত কর্তৃক একতরফা এবং অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত লাদাখের তথাকথিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে স্বীকৃতি দেয়নি। ভারতের অভ্যন্তরীণ রায় এই সত্যকে পরিবর্তন করে না যে চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিম অংশটি সর্বদা চীনের অন্তর্গত।’ প্রসঙ্গত, ২০২০ সাল থেকেই পূর্ব লাদাখে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী। ওই বছরের মাঝামাঝি সময়ে গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা ও চীনের অন্তত ৪ সেনা নিহত হন। গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি সবচেয়ে জটিল হয়ে ওঠে প্যাংগং হ্রদ সংলগ্ন ফিঙ্গার এলাকাগুলোতে।তবে অল্পের জন্য যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পায় পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ। এরপরই লাগাতার আলোচনার মাধ্যমে ২০২১ সালে প্যাংগং থেকে ফৌজ সরিয়ে নেয় দুই দেশ। এবার গোটা পূর্ব লাদাখ জুড়ে সেনা প্রত্যাহারের উদ্দেশে আলোচনা চলছে দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে। এই আলোচনার মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ইস্যুতে দেয়া  ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন লাদাখ | | নিয়ে | চীন | ও | ভারতের | মধ্যে | ফের | অস্বস্তি