আন্তর্জাতিক

এবার পথে নামলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও চলমান সহিংস বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানে সরকারপন্থী বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) এনঘেলাব স্কয়ারে আয়োজিত ওই সমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজেই লাখো মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিলে অংশ নেন। বিক্ষোভে প্রাণহানি বাড়তে থাকায় এই সমাবেশ দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পতাকা হাতে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটছেন, তাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত জনস্রোতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এর আগে প্রেসিডেন্ট নিজেই দেশবাসীকে ‘জাতীয় প্রতিরোধ মিছিল’-এ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অস্থিরতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

এই সমাবেশ শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিরজান্দ, জানজান, কেরমান, জাহেদান, রাশত, আরাক, মাশহাদ ও তাবরিজসহ দেশের বিভিন্ন শহরে একযোগে সরকারপন্থী জমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, এসব সমাবেশের মাধ্যমে ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অপরাধ’ এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত তুলে ধরা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে বলেন, তার সরকার জনগণের কষ্ট ও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ সম্পর্কে সচেতন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের কথা শুনতে প্রস্তুত। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েকটি শহরে সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তেহরান পুলিশের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ রেজা রাদান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘দৃঢ় ও কঠোরভাবে’ ব্যবস্থা নিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের থেকে আলাদা করে বহু দাঙ্গাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু প্রতিবাদকারী ভবন ও দেয়াল ধ্বংস করে বিদেশি শক্তিকে খুশি করার চেষ্টা করছে। একই দিনে ট্রাম্পও ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দমন-পীড়ন শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা প্রথমে তেহরানে হলেও দ্রুত অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতন এই আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা জনগণের ‘যৌক্তিক দাবি’ বাস্তবতার আলোকে সমাধানের চেষ্টা করছে, যদিও তাদের মতে বিদেশি শক্তি এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি #প্রেসিডেন্ট #মাসুদ পেজেশকিয়ান