বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমসাময়িক ও বৈচিত্রময় চলচ্চিত্রের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৪তম আসর। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক উৎসবে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের ২৪৬টি সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে। উৎসবের প্রধান ভেন্যু হিসেবে রয়েছে জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম। আয়োজকদের তথ্যমতে, উৎসবের চতুর্থ দিনে আজ বিভিন্ন মিলনায়তনে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য মিলিয়ে মোট ৪৩টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, প্রধান মিলনায়তন (শাহবাগ)
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে মোট ৭টি দেশের ৮টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। উৎসবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, চীন, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া। থাকছে বৈশ্বিক ও বাংলাদেশি সিনেমার মিলনমেলা। এখানে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের যৌথ প্রযোজনার ‘ডিবেট’, চীনের ‘সূর্যোদয়ে নিস্তব্ধতা’, এস্তোনিয়া জার্মানি লাটভিয়ার ‘এমালোভি (সিংহী)’ প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ প্যানোরমা ও স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে দেশের নির্মাতাদের ‘চা চাই’, ‘প্রাচীর’, ‘ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প’ এবং পূর্ণদৈর্ঘ্যে ‘একটি পাথরের গল্প’ দেখানো হয়। ওপেন টি বায়োস্কোপ বিভাগে থাকবে বাংলাদেশের ‘ম্রো রূপকথা’।
জাতীয় জাদুঘর, সুফিয়া কামাল মিলনায়তন
জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে মোট ১৪টি দেশের ১১টি সিনেমার প্রদর্শনী। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো– রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, স্লোভেনিয়া, গুয়াতেমালা, গ্রিস, মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, কাতার, যুক্তরাজ্য, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, আজারবাইজান। রাশিয়ার ‘মুক্তি’, ইতালি ও স্লোভেনিয়ার ‘সময়ের শিকল’, গুয়াতেমালার ‘প্রতিফলন’, গ্রিসের ‘ছয়’, মিসর- জর্ডান ফিলিস্তিনের ‘সুকুন (প্রতিধ্বনি)’, কাতার যুক্তরাজ্যের ‘হিচ ৬০’, চেক প্রজাতন্ত্র-স্লোভাকিয়ার ‘পথিক’। এশিয়ান প্রতিযোগিতায় ছিল ইতালির ‘তোমোশিবি’, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘মানবতার বিশাল অ্যালগরিদম’ এবং আজারবাইজানের ‘একাকী মানুষের মনোলগ’।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন
জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বিশ্ব ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য রয়েছে। ভারতের ‘পোনমান (মাছরাঙা)’, চীনের ‘আমি আমি’, ইরাকের ‘বাবা নোয়েল’, ইরানের ‘পবিত্র জল’, ‘রাজহাঁস দাঁড়িয়ে ঘুমায়’, ‘সূর্য উঠবে না’, ‘নদী ফিরে আসে না’ প্রদর্শিত হয়। এশিয়ান প্রতিযোগিতায় ছিল তাজিকিস্তান ইরানের যৌথ ছবি ‘বড়শিতে মাছ’। উৎসবে ৫টি দেশের ৯টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো– ভারত, চীন, ইরাক, ইরান, তাজিকিস্তান।
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় ৫টি দেশের ৩টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো কাজাখস্তান, আবখাজিয়া, রাশিয়া, ভারত, পাপুয়া নিউগিনি। এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি প্রদর্শিত হবে। কাজাখস্তানের ‘আবেল’, আবখাজিয়া– রাশিয়ার ‘তিন বিয়ে ও এক পলায়ন’ এবং ভারত– পাপুয়া নিউগিনির ‘পাপা বুকা’।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ মিলনায়তন
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ৪টি দেশের ১১টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে। দেশগুলো হলো– চীন, সিঙ্গাপুর, ইরান, বাংলাদেশ। এই মিলনায়তনে চীনের ‘সূর্যোদয়ে নিস্তব্ধতা’, সিঙ্গাপুরের ‘আল আওদা’, ইরানের ‘আমার নাম ফিসফিস করে বলো’ প্রদর্শিত হবে। স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে বাংলাদেশের এক ঝাঁক ছবি ‘আবার কি তাকে দেখেছ’, ‘সভ্য’, ‘জীবনরেখা’, ‘অদ্ভুত (মানুষ প্রকৃতির শত্রু)’, ‘মেকিং ইত্যাদি’, ‘ফণীমনসা’, ‘দ্য রিডার’, ‘লাল শিকড়’ দর্শকদের আকর্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এসএইচ//