মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বন্ধ হয়ে গেছে, এমন তথ্য তাকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী বক্তব্যের পর এবার তুলনামূলক সংযত সুরে কথা বলেছেন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বুধবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসা হয়েছে এমন আশ্বাস তিনি পেয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘অন্য পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্রের’ সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে তিনি একেবারেই যে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন, তা নয়। তিনি বলেন, ‘পুরো প্রক্রিয়াটা আমরা দেখব—কীভাবে বিষয়গুলো এগোয়।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘খুবই ইতিবাচক বিবৃতি’ পেয়েছে।
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই। তাঁর মতে, ‘ফাঁসির বিষয়টি অবাস্তব।’
এর আগে বুধবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক বাহিনী অবস্থান করছে। একই সময়ে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতামূলক পরামর্শ জারি করেছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব দিতে তারা প্রস্তুত। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেন, ইরান তার শত্রু—ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে—’স্পষ্ট ও কঠোরভাবে’ জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের পেছনে এই দুই দেশই দায়ী।
পাকপুর আরও বলেন, আইআরজিসি শত্রুপক্ষের যেকোনো ভুল হিসাবের জবাব দিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের তরুণদের ‘হত্যাকারী’ বলে আখ্যা দেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর শুরু হওয়া বর্তমান আন্দোলনকে ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হলেও আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক দাবিতে রূপ নেয়। গেল ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, চলমান সহিংসতায় অন্তত ২ হাজার ৫৭১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও অন্তত ১২ জন শিশু রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এমএ//