আন্তর্জাতিক

তীব্র শীতকালীন ঝড়ের কবলে যুক্তরাষ্ট্র, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

তুষারপাত ও শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে নেমে এসেছে বিপজ্জনক মাত্রার ঠান্ডা, যা ২০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। এরই মধ্যে ১২টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কিন আবহাওয়া দফতর স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সতর্কবার্তা জারি করে জানায়, ভয়াবহ এই ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে আঘাত হানতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে ভারি তুষারপাত, হিমশীতল বৃষ্টি এবং চরম নিম্ন তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে, এমনকি মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত দুর্যোগপূর্ণ রূপ নিতে পারে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে ফ্লাইট চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এরই মধ্যে মেমফিস, ন্যাশভিল, ওয়াশিংটন ডিসি, বাল্টিমোর, ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন বড় শহরে ভারি তুষারপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রায় ১৭ কোটি ৯০ লাখ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ সরাসরি বরফঝড়ের সতর্কতার আওতায় রয়েছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ টেক্সাস সীমান্ত থেকে শুরু করে কানাডা পর্যন্ত প্রায় ২০ কোটি মানুষের জন্য বিপজ্জনক ঠান্ডার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভারি বরফের কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এতটাই ভয়াবহ হতে পারে, যা অনেক ক্ষেত্রে হারিকেনের ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে তুলনীয়। ঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অংশজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।

শিকাগোসহ মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে স্কুল-কলেজের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। গির্জাগুলো অনলাইনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করছে, আর ন্যাশভিলের গ্র্যান্ড ওলে অপ্রির মতো বড় আয়োজন দর্শকশূন্যভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। লুইসিয়ানায় মার্ডি গ্রা সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি কুচকাওয়াজ স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে যখন তীব্র শীত আর দুর্যোগের চিত্র, তখন ভিন্ন দৃশ্য ভারতের হিমাচল প্রদেশে। সেখানে মৌসুমের প্রথম তুষারপাত উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। ঝিরঝির করে নেমে আসা তুষারে যেন রূপকথার রাজ্যে পরিণত হয়েছে সিমলা, মানালি ও আশপাশের এলাকা। বরফের সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে গোটা অঞ্চল।

প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করেই স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা বাইরে বের হচ্ছেন। কেউ ছাতা হাতে তুষার থেকে নিজেকে রক্ষা করছেন, কেউ আবার তুষারপাতের আনন্দে মেতে উঠছেন নাচ-গানে। একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরেও। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহে এসব এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকেও অব্যাহত রয়েছে তুষারপাত। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মোসুলে তুষারের সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাতে শুক্রবার চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে শনিবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #তুষারপাত #ঝড় #মারাত্মক ঝুঁকি #ঠান্ডা