দিনের শুরুটা যেমন হয়, তার প্রভাব পড়ে পুরো দিনের শরীর ও মনের ওপর। তাই সকালে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং কোন সময়ে খাচ্ছেন—এসব বিষয় সুস্থ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই মনে করেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই পেটভরে খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া শরীরের জন্য সব সময় উপকারী নয় বরং এতে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে তাই দিনের প্রথম খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
ভেজানো আমন্ড দিয়ে শুরু হতে পারে দিন
আমন্ডের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কমবেশি সবারই জানা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন সকালে তিন থেকে পাঁচটি ভেজানো আমন্ড খেলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে শুকনো আমন্ডের পরিবর্তে আগের রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই বেশি উপকারী।
উষ্ণ পানিতে মধু ও লেবুর মিশ্রণ
সকালে এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে এক চা-চামচ মধু ও কিছুটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে, পাশাপাশি বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়াতে সহায়তা হতে পারে।
থাইরয়েডের সমস্যায় জিরা ভেজানো পানি
যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য জিরা ভেজানো পানি উপকারী হতে পারে। এ জন্য আগের রাতে এক গ্লাস পানিতে কিছু জিরা ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে জিরা ছেঁকে খালি পেটে সেই পানি পান করলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।
খালি পেটে পাকা পেঁপে
পাকা পেঁপে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। সকালে খালি পেটে কয়েক টুকরা পাকা পেঁপে খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় এটি হজম প্রক্রিয়াতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সকালে কাঁচা আমলকি
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ আমলকি অনেকেই সেদ্ধ করে খান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সেদ্ধ করলে এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। তাই সকালে খালি পেটে কাঁচা আমলকি খাওয়াই বেশি উপকারী।
নাশতায় রাখুন ডিম
ডিম পুষ্টিকর ও সহজলভ্য একটি খাবার। সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম বা অমলেট রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। এতে বারবার ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
ওটস ও কলার পরিজ হতে পারে পুষ্টিকর বিকল্প
অনেকেই ওটসের সঙ্গে দুধ বা টকদই খেয়ে থাকেন। তবে পাকা কলা দিয়ে তৈরি ওটসের পরিজ আরও পুষ্টিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শরীরে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক।
পরিজ তৈরির জন্য প্রথমে কড়াইয়ে ওটস হালকা ভেজে নিতে হবে। এরপর দুই কাপ পানি দিয়ে রান্না করতে হবে। কিছুটা ঘন হয়ে এলে আধা কাপ দুধ মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ জ্বাল দিতে হবে। পরে দুই চামচ গুড় বা মধু মিশিয়ে নামিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। পরিবেশনের আগে ওপরে আমন্ড, কাজু, কলা কিংবা আপেল কুচি ছড়িয়ে দিলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুটোই বাড়বে।
মৌসুমি ফল রাখুন সকালের তালিকায়
সকালের নাশতায় মৌসুমি ফল রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। অনেকের ধারণা, খালি পেটে ফল খাওয়া উচিত নয়। তবে তাদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর বা উপোস ভাঙার সময় ফল খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী। ফলে থাকা ভিটামিন, খাদ্যআঁশ ও প্রচুর পানি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে এবং সতেজতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।