রাজনীতি

‘এমপি-মেয়রদের বছরে ৪ বার নদীর পানিতে গোসল করানো হবে’

বায়ান্ন প্রতিবেদন

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে এমপি, মেয়রদের বছরে ৪ বার নদীর পানিতে গোসল করানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের জলাবদ্ধতা এবং নদী দূষণ নিয়ে এই অভিনব হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যদি আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তবে ওই এলাকার এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার এই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তারা নিজেরা ওই পানিতে নামবেন, তখনই নদী পরিষ্কার রাখতে তারা বাধ্য হবেন।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে আর ফ্যাসিবাদকে দেখতে চাই না। যারা জনতার এই মনের ভাষা বুঝতে পারছে না, জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের এ ভাষা বুঝিয়ে দেবেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি ‘না’ মানে গোলামি। ফ্যাসিবাদের শেকড় উৎপাটন করতে হলে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করতে হবে।

এ সময় জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজি ভিক্ষার চেয়ে নিকৃষ্ট। 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে এখন ‘চাঁদাবাজি’ নামক এক নিকৃষ্ট পেশার জন্ম হয়েছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘চাঁদাবাজদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’। আমরা কারো সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। যারা এই পথে আছেন, তারা ফিরে আসুন, নয়তো বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

নারীদের উপেক্ষা করে দেশ গড়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে জামায়াত নারীদের সম্পৃক্ত করবে। জামায়াত সরকার গঠন করলে নারীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান গড়ে তুলবে। 

নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। কর্মক্ষেত্র ও যাতায়াতে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ারে) বড় শহরগুলোতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে এবং সরকারি বাসের নিচতলা তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।’

যুবসমাজের উদ্দেশে  জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে ‘বেকার ভাতা’ তুলে দিয়ে তাদের অলস বানাতে চাই না। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাতে রূপান্তর করতে চাই, যাতে তারা দেশ গড়ার কারিগর হতে পারে। সাধারণ শিক্ষা, আলিয়া বা কউমি—সব মাধ্যমেই কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’

নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুটি অ্যাপস চালু করছি। একটির মাধ্যমে চাঁদাবাজদের গোপনে চিহ্নিত করা যাবে এবং অন্যটির মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। নির্বাচিত হলে প্রতি ৬ মাসে একবার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে এবং সম্পদের হিসাব দিতে হবে।

আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তাকে দেয়া একটি সম্মাননা স্মারক তিনি একজন শহীদ বোনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘এই সম্মান আমার প্রাপ্য নয়; এই সম্মান সেই শহীদদের প্রাপ্য যারা জালিমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বুক পেতে দিয়েছিল।’

এ সময় জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা নেই। জুলাইয়ের চেতনা এখনো জাগ্রত। কেউ যদি বাঁকা পথে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে।’

তিনি প্রশাসনকে কোনো দলের পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

সভায় জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, কেউ কেউ হেরে যাওয়ার ভয়ে বাঁকা পথে পা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করতে এলে আগুন জ্বলবে। 

রোববার সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম স্পট যাত্রাবাড়ীতে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কানায় কানায় ভরে যায় রাজধানী ঢাকার অন্যতম এই প্রবেশদ্বার।

দুপুর ১২টার দিকে সমাবেশ মঞ্চে হাজির হন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয় পুরো এলাকা। জনগণকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। বিশাল এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ তারিখ ‘ইনসাফ ও আজাদির’ পক্ষে রায় দেয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জামায়াত #আমির #ডা. শফিকুর রহমান #নদী #গোসল #এমপি #মেয়র