ইন্দোনেশিয়ার আছেহ প্রদেশে শারিয়া আইন অনুযায়ী মদ্যপান ও বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্কের অভিযোগে এক যুগলকে জনসমক্ষে ১৪০ বেত্রাঘাত করা হয়েছে। একের পর এক আঘাতের কারণে তরুণী অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং তাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ব্যান্ডা আছেহ শহরের একটি পার্কে পুলিশের তত্ত্বাবধানে জনম্মুখেই এ শাস্তি দেয়া হয়।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এটি আছেহ প্রদেশে শারিয়া আইন প্রয়োগের পর থেকে সবচেয়ে কঠোর শাস্তির একটি। ইন্দোনেশিয়ায় এর আগে কখনও একবারে কারো ওপর এত বেত্রাঘাতের ঘটনা ঘটেনি।
জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় প্রদেশের সংখ্যা মোট ৩৮টি। এগুলোর মধ্যে একমাত্র আছেহ প্রদেশে সাধারণ আইনের পাশাপাশি কট্টর শরিয়া আইন ও শরিয়াপন্থি বিচারব্যবস্থা প্রচলিত। সেই শরিয়া আইনে মদ্যপানের জন্য ৪০টি এবং বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য শাস্তি হিসেবে ১০০টি বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। যেহেতু ওই যুগলের বিরুদ্ধে এ দুটি অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তাই দুই অপরাধের শাস্তিই প্রদান করা হয়েছে তাদের।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ওই যুগলসহ মোট চারজনকে বেত্রাঘাত করা হয়। শরিয়া আদালতের রায় কার্যকর করতে মঞ্চে জনসম্মুখে প্রকাশ্যে ওই তরুণীকে বেত্রাঘাত করছিরেন ৩ জন নারী পুলিশ সদস্য। একের পর এক বেতের আঘাতে প্রথমে ওই তরুণী কাঁদছিলেন— পড়ে একসময় মঞ্চে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে ওই নারী চিকিৎসাধীন আছেন। আছেহ প্রদেশে এর আগেও বেত্রাঘাত জনিত কারণে গুরুতর অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে।
আছেহ প্রদেশের শরিয়া আইন অনুযায়ী অবিবাহিত যৌন সম্পর্ক, মদ্যপান, জুয়া খেলা এবং সমকামী সম্পর্কের মতো কাজের জন্য শাস্তি হিসেবে জনসমক্ষে লাঠি মারা হয়। সাধারণত এটি মসজিদ বা জনসমাগম স্থলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মানুষ এটি দেখতে এবং ছবি তুলতে পারে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই শাস্তি নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, এটি ইন্দোনেশিয়ার সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতি সৃষ্টি করে। সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, এই প্রথা ইন্দোনেশিয়ার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে এবং শাস্তিপ্রাপ্তদের উপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলে।
এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা এটিকে আইন ভঙ্গ প্রতিরোধ এবং প্রদেশের পরিচয়ের অংশ হিসেবে রক্ষা করেন। তবে মানুষের উপর প্রকাশ্য লাঠি মারার এই সংস্কৃতি নিয়ে দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এসি//