ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া এরফান সোলতানিকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তার আইনজীবীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরফান সোলতানির আইনজীবী আমির মুসাখানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তার মক্কেল জামিনে কারামুক্ত হন। মুক্তির সময় তার কাছ থেকে জব্দ করা মুঠোফোনসহ ব্যক্তিগত সব সামগ্রী ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আইনজীবী আরও জানান, প্রায় ১২ হাজার ৬০০ ডলার জামানতের বিনিময়ে এরফান সোলতানিকে মুক্তি দেওয়া হয়। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসসহ ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও তার জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এরফান সোলতানির গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে গত জানুয়ারিতে, ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও লাগামছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথমে তেহরানের ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামেন। এরপর সেই বিক্ষোভ কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
এই আন্দোলনের মধ্যেই ৮ জানুয়ারি ২৬ বছর বয়সী দোকানি এরফান সোলতানিকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি তেহরানের উত্তর-পশ্চিমের শহর কারাজের ফারদিস এলাকায়। গ্রেপ্তারের সময় ওই এলাকায় বিক্ষোভ চরমে ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের মাত্র তিন দিনের মাথায় এরফান সোলতানির পরিবারকে জানানো হয়, তার বিচার শেষ হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এমনকি ১৪ জানুয়ারি ফাঁসির তারিখও নির্ধারণ করা হয় বলে পরিবারকে জানানো হয়েছিল। এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করে হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, যারা ইরান ও কুর্দিস্তান অঞ্চলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে।
খবরটি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একের পর এক বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়াকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে থাকা ইরান সরকার আরও চাপে পড়ে। মাত্র কয়েক দিনের বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানায়।
এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে।
বিশ্বব্যাপী চাপ ও সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তেহরান। পরে ইরানের একটি আদালত এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে কারাদণ্ড দেন। ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেই মামলাতেই শেষ পর্যন্ত জামিনে মুক্তি পেলেন এরফান সোলতানি।
এসি//