ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে ঘোষণা ছিল, উপদেষ্টা পরিষদ তাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে সেটি করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ জায়গা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ধানমন্ডি মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ সরকারের ইতিবাচক যে অর্জন হয়েছে, তার তুলনায় ঘাটতি বা পথভ্রষ্ট হওয়ার উপাদানের পাল্লাটা ভারী। তবে বিচার ও নির্বাচনের অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কার অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ অবকাঠামো পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয় এবং মজবুত নয়। যার ফলে যতটুকু সংস্কার হয়েছে তার ভিত্তি দুর্বল থেকে গেছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে জুলাই সনদ দুর্বল হয়েছে। জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠারকে কেন্দ্র করে যে ধরনের সুপারিশগুলো ছিল বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের, সেই সুপারিশগুলোকে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক দলগুলো সকলেরই এক ধরনের অনীহা ছিল। জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যে গণভোট, সেটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ‘বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশের মধ্যে ‘দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ‘অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কা’ থাকলেও নির্বাচনি ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার যে প্রবণতা সবসময় ছিল, সেটি অব্যাহত আছে। অর্থ, পেশীশক্তি এবং ধর্ম—এই তিনটি শক্তির অপব্যবহার প্রকট দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। যার ফলে প্রতিযোগিতাসহ কতটুকু সুষ্ঠু নির্বাচন হবে সেটি দেখতে হবে।
টিআইবি প্রধান বলেন, যদি মব সন্ত্রাস যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলে অন্য যেকোনো ক্ষেত্রের মধ্যে নির্বাচনে সেটা প্রভাব পড়তে বাধ্য। সেটা ইতিমধ্যেই যে দেখা যাচ্ছে না, তা নয়। এমনকি বিভিন্ন দলের মধ্যে যে সহিংসতা বা অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে সহিংস রূপ নিচ্ছে, সেখানেও কিন্তু শুধুমাত্র দলীয় কর্মী অংশগ্রহণ করছেন, সেটি নয়।
মবের বিষয়ে সরকার শুরু থেকে ‘তৎপরতা দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশে এই যে মবের বিষয়টা, কিন্তু শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকেই। সরকারের যে পরিচালন কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশ সচিবালয়, সেখানে কিন্তু মবের উৎপত্তি প্রথম।
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি যে, এখন থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু না; তার পরবর্তী বেশ কিছুদিন পর্যন্ত সহিংসতার ঝুঁকি রয়ে গেছে। এটি সরকার আমাদের চেয়ে অনেক বেশি ভালো বুঝবেন।”
জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন এবং সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে ইফতেখারুজ্জামানা বলেন, এটি ‘বিদায়ী পরিহাস’ এবং একটা লোক দেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই নয়। লোক দেখানো পদক্ষেপের মাধ্যমে মিডিয়াকে আরো বেশি সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি পাঁয়তারা ।
প্রসঙ্গত, সংবাদ সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন শাহজাদা এম আকরাম এবং মো. জুলকারনাইন। গবেষণা প্রতিবেদনে বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনের নিরিখে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
আই/এ