জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন অনেকটা উষ্ণ হয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে কিছু চুক্তি ও সমঝোতা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে ট্রেনের বগি ও মালবাহী ওয়াগন কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ও লাহোরের মুঘলপুরায় অবস্থিত পাকিস্তান রেলওয়ের ক্যারিজ ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেছেন। তারা সেখানে ট্রেনের বগি, ওয়াগনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম তৈরির প্রক্রিয়া সরাসরি দেখেছেন।
পাকিস্তান রেলওয়ের লাহোরভিত্তিক কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স সচিব এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান শুক্রবার মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেন।
ওয়ার্কশপের প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ নাসির খালিলি পুরো কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও চলমান প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিনিধিদের বিস্তারিত তথ্য দেন। এছাড়া ওয়ার্কশপের কাজকর্ম নিয়ে একটি ছোট প্রামাণ্যচিত্রও তাদের দেখানো হয়।
পরবর্তীতে প্রতিনিধিদের মুঘলপুরার লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিন ওয়ার্কশপে নেয়া হয়, যেখানে ইঞ্জিন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানানো হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল সফরকে দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তান রেলওয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনায় ব্রডগেজ লাইনের জন্য ওয়াগন ও বগি সরবরাহ করছে।
ওয়ার্কশপের কর্মকর্তা খালিলি জানান, শিগগিরই বাংলাদেশের রেলওয়ের বিশেষজ্ঞ দল পাকিস্তান সফর করবেন এবং প্রযুক্তিগত বিস্তারিত তথ্য জানবেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ওয়াগন ও বগি কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গেও আলোচনা করছে, তবে পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি ইতিমধ্যেই উভয় দেশের রেলওয়ে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বলেছেন, এতে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।
এসি//