ঢাকা–৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান ব্যতিক্রমী উপায়ে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। রাজধানীর জুরাইন–দয়াগঞ্জ সড়কের মুন্সিবাড়ী মোড়ের একটি ময়লার ভাগাড়ের পাশে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি ইশতেহার তুলে ধরেন। তার নির্বাচন সমন্বয় দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় এলাকা কার্যত অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। সেই বাস্তবতা তুলে ধরতেই তিনি প্রতীকীভাবে ময়লার স্তূপের পাশেই ইশতেহার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ীর আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা–৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব থাকায় ইতোমধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মিজানুর রহমান। দূষিত পানির প্রতিবাদ আন্দোলনের পর একসময় তার নামের সঙ্গে ‘ওয়াসা মিজান’ উপাধিও যুক্ত হয়। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
ইশতেহারে তিনি মহল্লাভিত্তিক সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা উল্লেখ করেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘গলি সমাজ’ গঠন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ততায় নাগরিক সমস্যার সমাধান এবং তদারকি ও জবাবদিহির ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘এমপি হটলাইন ও ওয়েবসাইট’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে বারবার রাস্তা উঁচু করার পরিবর্তে সহজ ও টেকসই সমাধান গ্রহণ এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেয়ার কথাও রয়েছে তার অঙ্গীকারে। তিন মাসের মধ্যে ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত এবং একটি ‘রাস্তা সুরক্ষা চার্টার’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
প্রস্তাবিত চার্টার অনুযায়ী, কোনো সড়ক খোঁড়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গলি সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে সাত দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।
পানির সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সেবার বিনিময়ে বিল নিশ্চিত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেছেন তিনি। গ্যাসের বৈষম্য দূর করতে তিতাসকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা এবং এলপিজি সরবরাহকারীদের মাধ্যমে এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাক এনে ন্যায্যমূল্যে সিলিন্ডার গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
এ ছাড়া প্রতিটি মহল্লায় পর্যাপ্ত ওএমএস বা টিসিবি কার্যক্রম চালু, দুর্নীতিমুক্ত ও হয়রানিমুক্তভাবে কার্ড ও পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, জৈব, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও বিপজ্জনক—এই তিন শ্রেণিতে বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার খেলার মাঠ এবং স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনা ছাড়া অন্যান্য উন্মুক্ত স্থান বিকেল ও ছুটির দিনে খেলাধুলা ও অবসর কাটানোর জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়ার কথাও রয়েছে তার নির্বাচনী ইশতেহারে।
এসি//