জাতীয়

আজ সুন্দরবন দিবস

আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পালিত হচ্ছে সুন্দরবন দিবস। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন–এর পরিবেশগত গুরুত্ব, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও উপকূল রক্ষায় এর অবদান তুলে ধরতেই প্রতিবছর দেশে এ দিনটি উদযাপন করা হয়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই বন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সুন্দরবনের বড় অংশই বাংলাদেশের ভেতরে। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে গড়ে ওঠা এই বনভূমিতে রয়েছে শতাধিক উদ্ভিদ প্রজাতি এবং নানা ধরনের পাখি, সরীসৃপ ও জলজ প্রাণীর বসবাস। বিলুপ্তপ্রায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার এখানে প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি চিত্রা হরিণ, লবণাক্ত পানির কুমির, বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন ও পরিযায়ী পাখির জন্যও এটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকেও সুন্দরবনের গুরুত্ব অপরিসীম। মাছ ও বনজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে উপকূলীয় অঞ্চলের বহু মানুষের জীবিকা গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় এই বন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে—ঝড়ের গতি কমায় এবং উপকূলকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রয়োজনীয়তাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তবে নানা চ্যালেঞ্জে পড়েছে এই বিশ্বঐতিহ্য। বন উজাড়, দূষণ, অবৈধ শিকার, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও নদীভাঙন সুন্দরবনের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। অতীতে তেল দূষণ ও নৌদুর্ঘটনাও পরিবেশের ক্ষতি করেছে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিকভাবে সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা আলোচনা সভা, র‌্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। লক্ষ্য একটাই—প্রকৃতির এই অনন্য সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখা।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #সুন্দরবন #সুন্দরবন দিবস #ম্যানগ্রোভ বন