ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যাকেই দায়িত্ব দেয়া হবে, তাকেই নিশ্চিহ্ন তথা হত্যা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। একইসঙ্গে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, নতুন নেতৃত্ব যিনিই আসুক, তাকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এবং তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করবে।
এ বিষয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যাকেই নিয়োগ দেয়া হোক না কেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘ ইসরাইল ধ্বংসের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখতে, যুক্তরাষ্ট্র ও মুক্ত বিশ্ব এবং অঞ্চলের দেশগুলোকে হুমকি দিতে এবং ইরানি জনগণকে দমন করতে ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা যাকেই নেতৃত্বে বসাবে, বিনা দ্বিধায় তিনি নির্মূলের লক্ষ্যবস্তু হবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার নাম কী বা কোথায় লুকিয়ে আছে, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’
কাটজ জানান, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করতে এবং ‘ইরানি জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের পরিবেশ তৈরি’ করতেও পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যাদের বিবেচনায় রাখা হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই এখন মৃত বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের তৃতীয় ধাপ শুরু হয়েছে এবং প্রথম দফার হামলাতেই বহু জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
তার দাবি, দেশটির ‘সবকিছুই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে’।
ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘যাদের আমরা ভেবেছিলাম, তাদের অধিকাংশই মৃত। সেই গোষ্ঠীর কয়েকজনকে নিয়ে ভাবা হয়েছিল, তারাও মারা গেছে। এখন আমাদের সামনে আরেকটি দল আছে। খবর অনুযায়ী, তারাও হয়তো মৃত।’
তিনি আরও দাবি করেন, প্রথম দফার হামলাতেই বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘শীর্ষ নেতাও আর নেই। আপনারা জানেন, প্রথম আঘাতেই ৪৯ জনকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। আর আজ নতুন নেতৃত্বের ওপরও আরেকটি হামলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, সেটিও বেশ বড় ধরনের।’
এসি//