দেশজুড়ে

উত্তরের ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে পুলিশের নানা পদক্ষেপ, চার লেনে স্বস্তির প্রত্যাশা

ইউসুফউজ্জামান ইমরান, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঢাকারংপুর মহাসড়কে এবার ভিন্ন চিত্র দেখার আশা করছেন উত্তরাঞ্চলের যাত্রীরা। মহাসড়কের চারলেন চালু হওয়া, যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড়ে একাধিক উড়ালসেতু নির্মাণ এবং হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় সার্ভিস সড়ক চালু থাকায় এবার ঈদযাত্রায় দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের ঢাকাবগুড়া অংশটি এতদিন ঈদ এলেই তীব্র যানজটের জন্য কুখ্যাত ছিল। তবে এবার সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়া এবং যানবাহন চলাচলের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

জানা গেছে, যমুনা সেতু হয়ে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলা এবং দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচটি জেলার হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার যানবাহন সেতুটি অতিক্রম করে। কিন্তু ঈদের সময় এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অতীতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ গাড়ি সেতু পারাপারের চেষ্টা করলে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো। তবে এবার সড়ক সম্প্রসারণ ও ব্যবস্থাপনায় উন্নতির কারণে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন যেন সড়কে চলতে না পারে, সেদিকেও কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দূরপাল্লার বাস চালক রাকিব সরকার জানান, সড়কের অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। তাদের মতে, এবার বড় ধরনের যানজটের আশঙ্কা কম। তবে মাঝেমধ্যে মহাসড়কে ডাকাতি বা গাড়িতে ঢিল ছুড়ে যাত্রীদের ভয় দেখানোর ঘটনা নিয়ে চালক ও সহকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। তারা বলেন, মহাসড়কে পুলিশের টহল জোরদার থাকলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে মহাসড়ককে নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। তিনি জানান, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানজট প্রতিরোধে প্রায় একশপুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করছেন। একই সঙ্গে ডাকাতি বা ছিনতাই ঠেকাতে বাড়তি নজরদারিও রাখা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে নিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকারংপুর মহাসড়কের চারলেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সাসেক-২ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, চারলেন সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন পুরো মহাসড়কেই যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়কগুলোও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা যান চলাচলকে আরও সহজ করেছে।

এদিকে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফিটনেসবিহীন ও জরাজীর্ণ যানবাহন যাতে মহাসড়কে চলতে না পারে সে বিষয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি জানান, জেলার প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে দায়িত্ব পালন করবেন।

সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের আশা, সড়কের উন্নয়ন ও প্রশাসনের বাড়তি প্রস্তুতির কারণে এবার উত্তরাঞ্চলের মানুষ তুলনামূলক কম ভোগান্তিতে এবং স্বস্তিতে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ঈদ যাত্রা #সিরাজগঞ্জ