পাবনার ঈশ্বরদীতে আধুনিক কৃষিযন্ত্র চালাতে ডিজেল সংকটে পড়ে সরাসরি কৃষিমন্ত্রীকে ফোন করেছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ উদ্দিন। সমস্যা সমাধানে মন্ত্রীর নির্দেশনার দুই দিন পরেও তেল পাননি ভুক্তভোগী কৃষক।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ কৃষক ময়েজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রায় ৪০ জন কৃষক তেলের সমস্যার সমাধান জানতে যান। সেখানে কোনো সমাধান না পেয়ে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ উদ্দিন (কুল ময়েজ) সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফোন দেন। মন্ত্রী দীর্ঘ সময় কৃষকের কথা শোনেন এবং পাশে থাকা কৃষি কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
কৃষক ময়েজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে সেচ, মাড়াই ও জমি চাষের প্রতিটি ধাপে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এসব ভারী যন্ত্র পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানে (প্লাস্টিকের পাত্র) করে ডিজেল সংগ্রহ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি ক্যানে তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে পাম্প কর্তৃপক্ষ কৃষকদের তেল দিচ্ছে না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ট্রাকে শত শত লিটার তেল দেওয়া হলেও আমাদের ঢোপে তেল দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে খেসারি ও গম মাড়াইয়ের মৌসুম চলায় প্রচুর ডিজেল প্রয়োজন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার চিরকুটেও (স্লিপ) কাজ হচ্ছে না। মন্ত্রীর আন্তরিকতায় মুগ্ধ হলেও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা’।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মন্ত্রীর নির্দেশের পর তারা কাজ শুরু করেছেন। তেলের জন্য পাম্পগুলোতে নতুন করে বিশেষ প্যাড বা স্লিপ ছাপাতে দেওয়া হয়েছে। পাম্প মালিকদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, ঢোপে তেল নিতে গেলে অতি উৎসাহী বাইক চালকরা মার মুখী আচরণ করেন। এজন্য মূলত সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
আই/এ