জাতীয়

আজ থেকে বাড়ছে জ্বালানি তেলের সরবরাহ

দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ এবং পেট্রোল ও ডিজেল ১০ শতাংশ করে বাড়ানো হবে।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এতদিন সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল আগের বছরের গড় হিসেবে। ফলে বাড়তি চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়। এখন জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।

দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। চলতি এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ দুই হাজার টন। এর সঙ্গে আরও চারটি জাহাজে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে প্রায় ৮০ হাজার টন মজুত রাখা আছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি কমে প্রায় এগারো হাজার একশ সাত টনে নেমে এলেও আজ থেকে তা বাড়িয়ে প্রায় তেরো হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে।

অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদার চাপ বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮৪ টন অকটেন মজুত রয়েছে, যা প্রায় পঁচিশ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবুও ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কমাতে দৈনিক সরবরাহ এক হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় এক হাজার ৩৬৩ টনে নেওয়া হচ্ছে।

পেট্রলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় আঠারো হাজার ৮৩০ টন। দৈনিক গড়ে এক হাজার ২৫৩ টন বিক্রির সঙ্গে আরও অতিরিক্ত সরবরাহ যুক্ত করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবে বছরে চাহিদা চার থেকে পাঁচ শতাংশ বাড়ে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তাই বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়িয়ে বাজার স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জ্বালানি তেল #তেল