রাজনীতি

বৈছাআ’র শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।  গণভোটে হ্যাঁএর পক্ষে প্রচারণা চালানোর জন্য সরকার থেকে পাওয়া অনুদানের অর্থ সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের অন্ধকারে রেখে রিফাতসহ অন্য অভিযুক্তরা সেই অর্থ লোপাট করেছেন

সিনথিয়া জানান, ‘হ্যাঁএর পক্ষে দেশব্যাপী অনলাইনে প্রচারণার আয়োজন করা হয়েছিল। তখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন, এত বিপুল অর্থের জোগান কীভাবে আসবে। জবাবে বলা হয়েছিল, ব্যক্তিগত অর্থে এমনকি বাবার টাকায়এই প্রচারণা চালানো হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও তাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, গত বছরের ২৫ জুন প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয় যেখানে সরাসরি ভোটে কেন্দ্রীয় মুখপাত্র নির্বাচিত হন সিনথিয়া জাহিন আয়েশা। এছাড়াও কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিবসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতারা ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি এবং ধারাবাহিকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে

তিনি আরও অভিযোগ করেন,  সব ধরনের সিদ্ধান্ত সভাপতি রিফাত রশিদ এককভাবে নিয়েছেন, যা সংগঠনের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি। এটি কেবল ব্যক্তিগত অবমূল্যায়ন নয়, বরং সংগঠনের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের উদাহরণ।

সিনথিয়া বলেন, সর্বশেষ ১২ এপ্রিল এক কেন্দ্রীয় বৈঠকে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করা হয়। তবে ওই অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে তার কোনও স্বচ্ছ তথ্য দেওয়া হয়নিএমনকি ওই বৈঠকে ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের আগেই উপস্থিত সদস্যদের মোবাইল ফোন জব্দ করে নেওয়া হয়, যাতে কোনও তথ্য সংরক্ষণ করা না যায়।

তিনি বলেন, উপস্থাপিত হিসাব গোপন রাখায় তা অবিশ্বাস্য, অসংগঠিত ও গোজামিলপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিকল্পিত আর্থিক অনিয়ম ও সম্ভাব্য আত্মসাতের ইঙ্গিত বহন করে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন