ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করল মার্কিন প্রশাসন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) কংগ্রেসে বক্তব্য দিতে গিয়ে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট জানান, বিপুল অর্থের বেশিরভাগই অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় খরচ হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ বা মেরামতের ব্যয় এই হিসাবে যুক্ত আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় যুদ্ধের খরচ এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি ও সরকারি ব্যয় নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমালোচনা জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পরিস্থিতি প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
কংগ্রেসের শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ছিল এবং অবশেষে তার একটি আনুষ্ঠানিক হিসাব সামনে এলো।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের ব্যয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পুরো বার্ষিক বাজেটের সমান। তবে এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ওয়াশিংটনের খরচ ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। ফলে নতুন প্রকাশিত হিসাব নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই ব্যয়কে প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকাতে যা দরকার, যুক্তরাষ্ট্র সেটিই করছে।
উল্লেখ্য, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও অবস্থান করছে।
যুদ্ধের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়েছে। তেল ও গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি, সার ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন সরকারের পদক্ষেপে সমর্থন দিচ্ছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ নাগরিক। গেল মার্চ মাসের তুলনায় চলতি এপ্রিলে এই সমর্থন আরও কমেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএ//