মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ শুধু কূটনৈতিক টেবিলেই নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিশ্ববাজারেও। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী, আর সেই চাপেই আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে দেখা দিয়েছে নিম্নমুখী প্রবণতা। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ।
রয়টার্সের তথ্যমতে, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৮৬ দশমিক ২০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের শক্তিশালী অবস্থানও স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করেছে। কারণ এতে অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়ছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে স্বর্ণবাজারে।
ইরান ও লেবানন ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়ছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও, দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ সংকটকে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন আসন্ন মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই প্রতিবেদনের দিকে গভীর নজর রাখছেন।
এদিকে, চীনের বাজারেও স্বর্ণ উৎপাদনে ভাটা পড়েছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কয়েকটি খনি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
অন্যদিকে ধাতব বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ৬১ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪১ দশমিক ৬৬ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮২ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমেছে।
এসি//