রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে গত বছর ১ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। সোমবার (১১ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালে, যখন নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন প্রদান করে। তবে ২০০৯ সালে এই নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ ২৫ জন ব্যক্তির পক্ষ থেকে একটি রিট আবেদন করা হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টের তিন সদস্যের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে দলটি।
তবে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা জামায়াতের আবেদনটি ২০১৩ সালের ৫ আগস্ট খারিজ করে দেন তৎকালীন চেম্বার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের আপিল দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে আবেদনটি একবার খারিজ (ডিসমিসড ফর ডিফল্ট) করা হয়েছিল।
তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদনটি পুনরায় গ্রহণ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া শুনানিতে জামায়াতের প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের জুনে আদালত জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত আগের সব আদেশ বাতিল করে রায় প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই নিষেধাজ্ঞার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়।
আজকের এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকের আইনি লড়াইয়ের অবসান হলো এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের পথচলার আইনি বাধা পুরোপুরি দূর হলো।