রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎই ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় নেমে আসে এক পারিবারিক ট্র্যাজেডি। রাতের খাবারের টেবিলে শুরু হওয়া তুচ্ছ কথাকাটাকাটি শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়, যেখানে প্রাণ হারালেন বাবা ও ছেলে—দুজনেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১১ মে) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
লুধিয়ানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ষাটোর্ধ্ব সুরিন্দর সিং ওরফে ফৌজি, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সময় ছেলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে তিনি ছেলেকে গুলি করেন।
ঘটনাস্থলেই মারা যান তার ৪০ বছর বয়সী ছেলে গুরশরন সিং গিনি। ঘটনার পরপরই সুরিন্দর সিং বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুরিন্দরের স্ত্রী কয়েক বছর আগে মারা যান। তিনি এখন আবার বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ছেলে গুরশরন এই দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাবের ঘোর বিরোধী ছিলেন। এ নিয়ে ডিনারের সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সুরিন্দর তার অবিবাহিত ছেলে গুরশরনের সঙ্গেই থাকতেন। তার অন্য দুই মেয়ে বিদেশে থাকেন।
হত্যার বিষয়ে সরাভা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বিজয় কুমার জানান, তর্কাতর্কি চরমে পৌঁছালে সুরিন্দর তার ১২ বোর ডাবল ব্যারেল বন্দুক দিয়ে ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রথমবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গুরশরন জীবন বাঁচাতে রাস্তায় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সুরিন্দর পিছু ধাওয়া করে রাস্তায় তাকে গুলি করেন। এরপর আহত ছেলেকে রাস্তায় ফেলে রেখে বাড়িতে ফিরে নিজেকে তালাবদ্ধ করে ফেলেন এবং বিষাক্ত দ্রব্য পান করেন।
রাস্তায় গুরশরনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে বাড়ির দরজা ভেঙে সুরিন্দরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। দুজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশীদের বরাতে পুলিশ পরিদর্শক বিজয় কুমার জানান, বাবা ও ছেলের মধ্যে প্রায়ই ডিনারের সময় ঝগড়া হতো। ঘটনার সময় দুজনই মদ্যপ ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাবারের থালায় খাবার পড়ে ছিল, যা থেকে বোঝা যায় খাওয়ার মাঝপথেই ঝগড়া শুরু হয়েছিল।
ঘটনার পর নিহত সুরিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে এর মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে দুইজনের মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য তাদের দুই মেয়ের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এসি//