অপরাধ

রামিসা হত্যার নেপথ্যে বিকৃত যৌন নির্যাতন!

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে (০৭) নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় গা শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে বিকৃত যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ করার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। নৃশংস এই ঘটনার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে স্থানীয় পপুলার স্কুলের ছাত্রী রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই ফ্ল্যাটেরই বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে বের হন তার মা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল জোড়া দেখতে পেয়ে তিনি সেখানে কড়া নাড়েন।

পুলিশের দাবি, রামিসার মা যখন বাইরে থেকে দরজা ধাক্কাচ্ছিলেন, তখন ভেতরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছিল। ঘাতক জাকিরকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘ সময় ধরে দরজা খোলেননি। জানালা কেটে জাকির নিরাপদে পালিয়ে গেছে নিশ্চিত হওয়ার পরই স্বপ্না দরজা খোলেন। এই হত্যাকাণ্ডে স্বপ্না সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্নাকে আটকে সমর্থ হলেও জাকির জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, জাকির নারায়ণগঞ্জের একটি বিকাশের দোকানে বন্ধুর পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পেশায় রিকশা মেকানিক জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোর জেলায় আগে থেকেই একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি বিকৃত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অথবা বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত স্বপ্না জানিয়েছেন, তার স্বামী জাকির চরম বিকৃত যৌনরুচির অধিকারী এবং বিভিন্ন সময়ে সে তার ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালাত।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পল্লবী #রামিসা আক্তার #হত্যা