রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্ট ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরাও এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন। এবার এই নৃশংস ঘটনা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নৃশংস এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে দেশের আপামর জনতার পাশাপাশি তিনিও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
বায়ান্ন টিভির পাঠকদের জন্য ইমরুল কায়েস’র পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘‘আসসালামু আলাইকুম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ—এ দেশটি আপনি সেভ করুন। এই দেশে আর কোনো শিশুই নিরাপদ নয়। কিছু মানুষ হিংস্র পশুর থেকেও বেশি হিংস্র হয়ে গেছে, এবং যারা সমাজে এসব কাজে লিপ্ত, তাদের জন্য আপনি সংবিধান পরিবর্তন করে কঠোর শাস্তি, ফাঁসি অথবা জনসমক্ষে পাথর নিক্ষেপের একটি আইন পাশ করুন।
বিচারব্যবস্থা এমন করুন যাতে কেউ আর সাহস না পায় এ ধরনের জঘন্য কাজ করতে। এসব মানুষের এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।
এই বিষয়ে সংবিধান পরিবর্তন করুন—এই দেশের প্রতিটি দলের মানুষ এই কাজের জন্য আপনার পাশে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা আর চাই না এই দেশে কোনো নিরীহ মানুষ বা শিশু এভাবে প্রাণ হারাক।’’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি।
ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
ঘটনাস্থলে স্বপ্নাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, তার স্বামী রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে এবং গলা কেটে হত্যা করে। রামিসার মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা কাটে।
এছাড়া যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এরপর জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেল আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সোহেল ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে অজ্ঞাত আসামি এখনও পলাতক রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন।
শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত সেখানে গেলেও তার আগেই সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে এরই মধ্যে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের ইছাপুরের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।
এসি//