তেলাপোকার মুখোশ, পতাকা আর টি-শার্ট—ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তরমন্তরে দলটির সাম্প্রতিক বিক্ষোভ যেমন তরুণদের একাংশের মধ্যে সাড়া ফেলেছে, তেমনি সমাবেশ ঘিরে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভাইরাল ছবি ও ভিডিও নতুন বিতর্কও উসকে দিয়েছে। একদিকে মুসলিম যুবকদের আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে সিজেপির প্রতীকচিহ্ন ঘিরে বাড়ছে বাণিজ্যিক আগ্রহ।
গত শনিবার (০৬ জুন) দিল্লির যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত এই তরুণ সংগঠনটি অল্প সময়ের মধ্যেই মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আত্মপ্রকাশ করা সংগঠনটি আসলে কী চায়, তা নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ।
এদিকে ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মুসলিম যুবকদের এই আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ছয় বছর আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই মুসলিম তরুণদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট বার্তাগুলোতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে তদন্ত ও নজরদারির মুখে প্রথমেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের পড়তে হতে পারে। এ কারণে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে ছয় বছর আগের সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের কথাও সামনে আনা হচ্ছে। সে সময় নারী নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে দেশটিতে তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা দেয়। দিল্লি ও আসামের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, মসজিদের ঘোষণা, ইনস্টাগ্রাম রিল এবং এক্স পোস্টের মাধ্যমে মুসলিম তরুণদের কাছে সতর্কতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্যাপকভাবে প্রচারিত কিছু বার্তায় বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টার একটি বিক্ষোভ শেষ হয়ে গেলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বহন করতে হতে পারে।
অন্যদিকে বিক্ষোভের পর যন্তরমন্তরে অংশগ্রহণকারীদের ফেলে যাওয়া খাবারের ট্রে, প্লাস্টিকের ব্যাগ, মোড়ক ও অন্যান্য আবর্জনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, নেতিবাচক ভাইরাল কনটেন্ট কি আন্দোলনের মূল দাবিগুলো থেকে জনমতকে অন্যদিকে সরিয়ে দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে?
একই সঙ্গে অনেকে মত দিচ্ছেন, পরিবর্তনের কথা বলা তরুণদের জনস্বাস্থ্য, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং বড় সমাবেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যেও সিজেপির জনপ্রিয়তা কমছে না। বরং দেশজুড়ে তেলাপোকার ছবিযুক্ত মুখোশ, পতাকা ও টি-শার্টের বিক্রি বেড়েছে। বাজারে প্রায় ৩০ রুপিতে তেলাপোকার মুখোশ এবং প্রায় আড়াইশো রুপিতে সিজেপির লোগোসংবলিত টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে।
তবে এই বাণিজ্যিকীকরণ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের দাবি, আন্দোলনের প্রতীক ও লোগোকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হলে প্রতিবাদের মূল বার্তা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসি//