জাতীয়

দেশজুড়ে ১৬ লাখের বেশি চারা বিনামূল্যে দেবে সরকার

বায়ান্ন প্রতিবেদন

কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করবে সরকার। পাশাপাশি জৈব সার, বাঁশের খুঁটিসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণও দেয়া হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

এই উদ্যোগটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নেয়া হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার কৃষকদের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হবে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে চারা বাবদ ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জৈব সার বাবদ ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাঁশের খুঁটি বাবদ ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা, পরিবহন ব্যয় বাবদ ৭ কোটি ৬১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ ৫ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি চারার সঙ্গে কৃষককে ৩০ কেজি জৈব সার এবং একটি করে বাঁশের খুঁটি বিনামূল্যে দেয়া হবে। পুরো কর্মসূচিতে মোট ১৬ লাখ ২৮ হাজার বাঁশের খুঁটি এবং ৪৮ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন জৈব সার বিতরণ করা হবে।

চারার প্রজাতি অনুযায়ী চারটি ক্যাটাগরিতে সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১ এ নারিকেল চারার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১০ টাকা। ক্যাটাগরি-২ এ আম, লিচু, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলদ চারার জন্য ৩১০ টাকা, ক্যাটাগরি-৩ এ মাল্টা ও জলপাইসহ চারার জন্য ২৯০ টাকা এবং ক্যাটাগরি-৪ এ বনজ ও অন্যান্য প্রজাতির চারার জন্য ২৪০ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় একজন কৃষক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ পাঁচটি চারা পাবেন। এসব চারা বসতবাড়ি, পতিত জমি, সড়কের পাশে, খালপাড়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় রোপণ করা যাবে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব কার্যক্রমে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিএ-২০০৬) ও (পিপিআর-২০০৮) অনুসরণ করতে হবে এবং বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না। তালিকা প্রস্তুত করবেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এবং কৃষক কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে উপকরণ বিতরণ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম জানান, চারা ও উপকরণ বিতরণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মেদ বলেন, আগামী ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিন থেকে সারাদেশে চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

 

তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #কৃষি পুনর্বাসন #গাছের চারা #বিনামূল্যে