ঝলমলে ধাতুর বাজারে আবারও লেগেছে আগুন। প্রতিদিনের ওঠানামার হিসাব যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ, অন্যদিকে স্থানীয় খরচের ঊর্ধ্বগতি—সব মিলিয়ে দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণ ও রূপার দাম। নতুন দরে ভরি ভরিতে বাড়তি চাপ এখন ক্রেতাদের কাঁধে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ১৫ জুন নতুন মূল্য নির্ধারণ করে, যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার (১৭ জুন) থেকে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রূপা বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দরে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) এবং রুপার (পিওর সিলভার) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায়। একইভাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এর আগে ১৩ জুন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বশেষ সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু স্বর্ণ নয়, রূপার দামও বেড়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট রূপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট রূপা ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। সর্বশেষ সমন্বয়ে প্রতি ভরিতে ২৩৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে।
অন্যদিকে, রূপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ৪৬ বার, যার মধ্যে ২৪ বার বেড়েছে এবং ২২ বার কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয়ভাবে কাঁচামালের খরচ বাড়ার প্রভাবেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রূপার দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এসি//