দেশজুড়ে

তিস্তার ভাঙনে বিলীন ৩০ বাড়ি, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

কুড়িগ্রাম দক্ষিণ প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি ও চতুরা গ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে অন্তত ৩০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, ফসলি জমি ও গাছপালা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করলে প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পূর্ব তীররক্ষা বাঁধে স্থাপন করা জিও ব্যাগ ভেঙে যেতে থাকে। এর পর থেকেই দ্রুতগতিতে শুরু হয় নদীভাঙন।

শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র স্রোতে জিও ব্যাগ নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সফল হচ্ছেন না। ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তিনটি বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আরও অন্তত ২০টি বাড়ি তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহে শুধু রামহরি মৌজাতেই ২৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে।

জানা গেছে, তিস্তার পূর্ব তীর সংরক্ষণে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০টি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে কাজ শেষ না করে বর্ষার মধ্যে তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ফেলার কারণে ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সঠিকভাবে ডাম্পিং না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

রামহরি গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা জাহেরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা শুরু হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি। প্রকল্প বাস্তবায়নে অবহেলা ও ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্যাকেজ বণ্টনে অনিয়ম এবং পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব মজিদুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ও মানসম্মতভাবে তীর সংরক্ষণকাজ শেষ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, তিস্তার পূর্ব তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #কুড়িগ্রাম #নদী ভাঙন