রাজনীতি

‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ স্লোগানে মাসব্যাপী কর্মসূচিতে এনসিপি

বায়ান্ন প্রতিবেদন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ পহেলা জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ শিরোনামে বিভিন্ন কর্মসূচীতে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদযাত্রা, গণসংযোগ, শহীদদের স্মরণ, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে দলটি।

সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা জুলাই রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এসব  কর্মসূচি। শেষ হবে ৫ আগস্ট বিজয়ের উল্লাস শীর্ষক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সোমবার (২৯ জুন ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন ।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাইকে ঐতিহাসিক মাস উল্লেখ করে মাসটিকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা নতুন প্রজন্ম ও দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এনসিপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ও ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে হাসনাত আবদুল্লাহকে আহ্বায়ক ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদকে সদস্যসচিব করে ২৮ সদস্যের জুলাই পুনর্জাগরণ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কর্মসূচিগুলোর পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নের কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সেই বছরের পহেলা জুলাই শুরু হওয়া আন্দোলন পরিনত হয়েছিলো গণঅভ্যুত্থানে। সেই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গেল বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি গঠন করা হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপি।

যেসব কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে

আজ জুলাই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজন করা হবে সংহতি সভা। ঘোষণা করা হবে জুলাই থেকে জনপদে শিরোনামে বিচার ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে মাসব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে পদযাত্রার রোডম্যাপ।

২ থেকে ৮ জুলাই সারাদেশে গ্রাফিতি, দেয়াললিখন ও ব্যানার-ফেস্টুনে জুলাই জাগরণ শীর্ষক বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। ৫ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। ১০ জুলাই হবে বাংলাদেশি সংস্কৃতির পরিবর্তিত অভিমুখ: লেখক-বুদ্ধিজীবীর দায় শীর্ষক আলোচনা।

১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই নারী সমাবেশ। পরদিন ১৫ জুলাই  রয়েছেকৃষকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক আয়োজন। ১৬ জুলাই হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের কবর জিয়ারত, দেশব্যাপী দোয়া ও মোনাজাত।

ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে কফিনমিছিল হবে ১৭ জুলাই। ১৮ জুলাই করা হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্যান্স ডের আয়োজন। ১৯ জুলাই রয়েছেউত্তরার রক্তাক্ত জুলাই স্মৃতিচারণা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। ২০ জুলাই আয়োজন করা হয়েছেজুলাইয়ের যাত্রাবাড়ী: মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মসূচি।

২২ জুলাই রয়েছে সাদা অ্যাপ্রোনের সাহস ও জুলাইয়ের অদৃশ্য বীরেরা শীর্ষক কর্মসূচি। ২৩ জুলাইজুলাই যুব কনভেনশন আহতের কণ্ঠে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও যন্ত্রণার দিনলিপি শীর্ষক আয়োজন করেছে। ২৪ জুলাই আয়োজন হবেঅবরুদ্ধ সময়ের স্মৃতি ও কবিতা শীর্ষক আয়োজন।

২৫ জুলাই এনসিপির উদ্যোগে আয়োজন করা হবে শ্রমিক সমাবেশ ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। ২৬ জুলাই রয়েছেসাদা পোশাকের জালিম শিরোনামে স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভা। ২৭ জুলাইকরা হয়েছেজুলাই গণঅভ্যুত্থান ও উদ্যোক্তার বাংলাদেশ শীর্ষক আয়োজন।

৩০ জুলাই বাস্তবায়ন করা হবেফিরে দেখা জুলাই শীর্ষক কর্মসূচি। সেদিন হ্যাশট্যাগ থেকে গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক একটি আয়োজন করা হয়েছে। ৩১ জুলাই হবেস্মৃতিতে জুলাইয়ের ক্যাম্পাস শিরোনামে শিক্ষকদের ভূমিকাবিষয়ক আলোচনা।

পরের মাসের পহেলা আগস্ট দেশপ্রেমের ইউনিফর্ম শীর্ষক আয়োজন করবে এনসিপি। সেদিন রয়েছেসংবাদে গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক কর্মসূচিও। ২ আগস্ট হবে জুলাইয়ের দ্রোহযাত্রা শীর্ষক আয়োজন। ওইদিন প্রকাশ করা হবে গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিস্বর ও জুলাই স্মরণিকা।

৩ আগস্ট রয়েছেজনতার এক দফা শীর্ষক আয়োজন। পরদিন ৪ আগস্ট আয়োজন করা হবেশ্রদ্ধা, স্মৃতি ও প্রতিশ্রুতি শিরোনামে আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানের। ৫ আগস্ট বিজয়ের উল্লাস শীর্ষক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি। 

এ ছাড়া পহেলা জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এনসিপির প্রবাসী সংগঠন ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স বিভিন্ন দেশে জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করবে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জুলাই গণ–অভ্যুত্থান