আইন-বিচার

ট্রাইব্যুনালে কল রেকর্ড

সাদ্দাম-ইনানকে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে একটি কল রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। তাদের দাবি, ওই কল রেকর্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিতে শোনা যায় ওবায়দুল কাদেরকে।

বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।

প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, ১৩ জুলাই ওবায়দুল কাদের ফোনকলে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে সাদ্দাম জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং রাত সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।সংবাদ প্রতিবেদন

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?’ সাদ্দাম পুলিশি অবস্থানের কথা উল্লেখ করলে কাদের আবার বলেন, ‘তা মারতেছ না কেন? নিচ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।’

কল রেকর্ডে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম জানান, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশের কারণে তারা শাহবাগ বা আন্দোলনকারীদের অবস্থানের দিকে যেতে পারেননি।

সাদ্দাম কাদেরকে বলেন, ‘মানে আমরা তো গিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই, তাহলে আমরা তো সেটা করতে পারব। স্যার, যে আমাদের নিষেধ করল। শাহবাগের দিকে যেতে তো আমাদেরকে নিষেধ করল। বারবার ফোন দিয়ে বলল যে শাহবাগের দিকে বা অন্য দিকে আমরা যেন না যাই। ওদের মুখোমুখি যেন না হই, এটাই তো বারবার বলতেছিল স্যার।’

তখন ওবায়দুল কাদের জানতে চান, ‘কে?’ জবাবে ইনান বলেন, ’আমাদের পুলিশ প্লাস বিপ্লব দা ওনারা বলছিল।’ এর জবাবে কাদের বলেন, ‘বিপ্লব তো এইটা বলার কথা না!’

গত ৪ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়। সেদিন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতে বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল পরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং দেশব্যাপী পরিচালিত একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দলীয় অঙ্গসংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়ার পর ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় এবং জুলাই-আগস্টের ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তারা সবাই পলাতক।

এর আগে গেল ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। 

এরও আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়া হয়।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জুলাই গণঅভ্যুত্থান #আওয়ামী লীগ #ওবায়দুল কাদের