বর্ষা মানেই বাজারজুড়ে টক-মিষ্টি স্বাদের দেশি ফল লটকনের সমারোহ। ছোট, গোলাকার ও রসালো এই ফলটি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণেও সমান সমৃদ্ধ। নিয়মিত লটকন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের নানা উপকার হয় বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
লটকনে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং সর্দি-কাশি, ফ্লু ও মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে মুখের ঘা দ্রুত শুকাতে এবং ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখতেও ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ।
পানিশূন্যতা দূর করে
লটকনের জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরম ও বর্ষাকালে শরীরকে পানিশূন্যতার হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এটি তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখতেও কার্যকর।
রক্তচাপ ও রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
এই ফলে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ভূমিকা রাখায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধেও উপকারী হতে পারে।
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, লটকনের পুষ্টি উপাদান রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে লটকন খেতে পারেন।
ত্বকের যত্নেও উপকারী
লটকন ত্বকের রুক্ষতা কমাতে, ত্বক ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করতে এবং বর্ষাকালে বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও এর পুষ্টি উপাদান ভূমিকা রাখতে পারে।
হজম ও মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব
লটকন রুচি বাড়াতে, বমিভাব কমাতে এবং হজমে সহায়তা করে। এছাড়া মানসিক অবসাদ কমাতেও এ ফলের ইতিবাচক ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন তিন থেকে চারটি লটকন খাওয়া নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত খেলে ক্ষুধামন্দা দেখা দিতে পারে। এছাড়া লটকনে পটাশিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকায় কিডনি রোগীদের এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতায় ভরপুর দেশি মৌসুমি ফল লটকন। তাই বর্ষার খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে এই ফল রাখলে শরীরের জন্য মিলতে পারে নানা উপকার।
পি/ডি