বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি গ্যাস, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে না পারে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সরকার যেন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন না দেখে। এ সময়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি না করারও আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১–দলীয় ঐক্য আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। গ্যাস নেই, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল দিতে হচ্ছে। এসব কারণে নারীরা রাস্তাঘাটে নেমে আসছেন, হাঁড়িপাতিল নিয়ে মিছিল করছেন। গণভোটের গণরায় যে সরকার মানে না, তারা জনগণের কোনো দাবিদাওয়া পূরণ করবে না। নির্বাচনের শুরু থেকে সরকার যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেটি তারা পদে পদে করে যাবে। সরকারকে সেটি করতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বর্ষাবিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। প্রয়োজনে ২০২৬ সালেও হবে। সরকার পাঁচ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ দিতে পারছে না, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। প্রতিশ্রুতি দিয়েও একটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। ক্যাম্পাসগুলোয় ক্ষমতাসীন ছাত্রদল নির্বিচার ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পরে বিএনপির ২০ লক্ষাধিক লোকের কাজের সুযোগ হয়েছে। তারা বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। দেশ পরিচালনায় যোগ্য লোক লাগে। ঋণখেলাপিদের দিয়ে দেশ চালানো যাবে না। সে জন্য সরকারের ওপর বেশি আশা করা যাবে না। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য যা করা দরকার, সেটাই করতে হবে।
কর্মসূচিতে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো, গত তিন মাসে আদায় করা সব ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অবিলম্বে গণশুনানির আয়োজন করতে হবে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটারভাড়া এবং অন্য সব অযৌক্তিক ও অবৈধ চার্জ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। গত তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ, মিটারভাড়া ও অন্যান্য খাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ কোনো আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দিতে হবে। বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোস্টপেইড বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে মিটার রিডিং লগ সংযুক্ত করতে হবে এবং প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও বিলিং ব্যবস্থার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট পরিচালনা করতে হবে।
জ্বালানি তেল ও গ্যাস-সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ১১–দলীয় ঐক্য আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার,এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান) প্রমুখ।
আই/এ