দুপুরের খাবারের পর অনেকেরই শরীরে ক্লান্তি, ঝিমুনি বা ঘন ঘন হাই ওঠার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিকেল ৩টার দিকে কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই এর জন্য গরম আবহাওয়া, ঘুমের অভাব বা কাজের চাপকে দায়ী করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে খাবারের পর রক্তে শর্করা (ব্লাড সুগার) হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং পরে দ্রুত কমে যাওয়া।
কেন হয় এমন?
ভাত, রুটি, পাউরুটি বা অন্যান্য কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর শরীর সেগুলোকে গ্লুকোজে পরিণত করে। এই গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়, যা কোষে গ্লুকোজ পৌঁছে দিয়ে শক্তি জোগায়। কিন্তু যখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যায়, তখন তাকে বলা হয় পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল গ্লুকোজ স্পাইক। পরে ইনসুলিনের প্রভাবে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে গেলে শরীরে ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।
ডায়াবেটিস না থাকলেও কেন সতর্ক হতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস না থাকলেও নিয়মিত ব্লাড সুগারের ওঠানামা দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
দুপুরের খাবারের পর শক্তি কমে যাওয়া ও ঝিমুনি। অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগা। শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ (ইনফ্লেমেশন)। ফ্যাটি লিভার, পিসিওএস, হৃদরোগ এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি হওয়া।
ঝিমুনি কমাতে কী করবেন?
খাবার খাওয়ার ধারাবাহিকতা বদলান
ভাত বা রুটি খাওয়ার আগে সালাদ, শাকসবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল) খান। এতে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কমে।
শুধু কার্বোহাইড্রেট খাবেন না
সাদা ভাত, পরোটা বা পাউরুটি একা না খেয়ে তার সঙ্গে ডাল, সবজি, ডিম, পনির বা টকদই রাখুন। এতে গ্লুকোজ ধীরে শোষিত হয়।
খাবারের পর হাঁটুন
দুপুরের খাবারের পর অন্তত ১০–১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। এতে শরীর সহজেই অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে এবং ঝিমুনি কমে।
সবশেষে, দুপুরের খাবারের পর ক্লান্তি বা ঝিমুনি সব সময় অলসতার লক্ষণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি রক্তে শর্করার ওঠানামার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই খাবারের ধরন ও খাওয়ার পরের অভ্যাসে ছোট কিছু পরিবর্তন আনলেই সারাদিন নিজেকে আরও সতেজ ও কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।
পি/ডি