২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে বড় ধাক্কা খায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের ঠিক আগে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। পরে ৪-১ গোলের পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি ফিফার এই সিদ্ধান্তও হয়ে ওঠে আলোচনার অন্যতম বিষয়।
বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন যুক্তরাষ্ট্র দলের ম্যানেজার স্যাম জাপাটকা এবং ইউএস সকার ফেডারেশনের নিরাপত্তাবিষয়ক সহসভাপতি ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল। ফিফার ডিসিপ্লিনারি প্রিভিউ বা শাস্তিমূলক তথ্যের তালিকায় তাদের নাম প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে কী কারণে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে আগের ম্যাচের পর ফিফার ম্যাচ-সংক্রান্ত প্রোটোকল ভঙ্গ এবং অনুমতি ছাড়া সীমাবদ্ধ এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের যোগসূত্রও খুঁজছেন অনেক বিশ্লেষক। ওই ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরও বালোগুন সতীর্থদের সঙ্গে মাঠে উদযাপনে অংশ নেন, যা ফিফার নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে ইউএস সকার ফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তার বরখাস্তের সঙ্গে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বা বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাকে খেলানোর বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই।
বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইউএস সকার। সংস্থাটির ভাষ্য, বিষয়টি সম্পূর্ণ ফিফার এখতিয়ারভুক্ত। অন্যদিকে, ফিফাও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের সঙ্গে স্যাম জাপাটকার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে ইউএস সকার ফেডারেশনে যোগ দেওয়ার পর ২০২০ সাল থেকে তিনি জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আর দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ফ্র্যাঙ্ক প্যানেল এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ও সিআইএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তাদের অনুপস্থিতি দলীয় ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের পরাজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে দুই কর্মকর্তার আকস্মিক বরখাস্তের ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক ফিফার সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তাদের মতে, শাস্তির কারণ প্রকাশ না করায় বিষয়টি আরও রহস্যের জন্ম দিয়েছে এবং ফিফার নিয়ম প্রয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এসি//