খেলাধুলা

বেজেছে বিদায়ের বাঁশি, তবু উৎসবে মেতেছে নরওয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক

ইংল্যান্ডের কাছে হারের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে নরওয়ের। তবে সেই পরাজয় তাদের আনন্দ থামাতে পারেনি। বরং রোববার (১২ জুলাই) ভোররাতে রাজধানী অসলোর রাস্তায় নেমে হাজারো সমর্থক ঐতিহাসিক এই বিশ্বকাপ যাত্রা উদযাপন করেছেন।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হারে নরওয়ে। স্থানীয় সময় তখন রাত প্রায় ২টা। তবুও লাল, সাদা ও নীল রঙের পোশাক পরা হাজারো সমর্থক অসলোর বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজপ্রাসাদের দিকে জড়ো হন। সেখানে তারা শেষবারের মতো আয়োজন করেন বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ উদযাপনের, যা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নরওয়ের সমর্থকদের বিশেষ পরিচয়ে পরিণত হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকেকে এক সমর্থক বলেন, “আমরা আমাদের দল নিয়ে গর্বিত। তারা আমাদের অসাধারণ কিছু স্মৃতি উপহার দিয়েছে।”

তার ভাষায়, কয়েক বছর আগেও এমন সাফল্যের কথা কল্পনা করাও কঠিন ছিল। কারণ, এবারের আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কখনোই কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি নরওয়ে।

পরাজয়ের পরও শহরের পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে দলটি বিদায় নিয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে সমর্থকেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

“আর দুই বছর পর ইউরো জিতব আমরা”—জনপ্রিয় রক ব্যান্ড টুইস্টেড সিস্টারের গানের সুরে এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে অসলোর রাত। সমর্থকদের মধ্যে বিতরণ করা হয় নরওয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার ব্রাউন চিজ।

রাজপ্রাসাদের সামনে আরেক সমর্থক বলেন, “এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, এটি আমাদের জাতীয় গর্ব। আমরা এমন একটি অর্জন উদযাপন করছি, যা আমরা সবাই মিলে সম্ভব করেছি।”

রাতভর জাতীয় সংগীতের সুর, আলোর ঝলকানি, আতশবাজি এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল কার্ল ইয়োহান সড়ক। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে।

আরেক সমর্থক বলেন, “এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক যাত্রা। ‘ভাইকিং রো’ এখন সারা বিশ্বে পরিচিত। আমরা যা স্বপ্ন দেখেছিলাম, তার চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করেছি।”

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইংল্যান্ড #নরওয়ে #ভাইকিং রো #ফিফা