দেশজুড়ে

সাবেক স্পিকার জমিরউদ্দীন সরকারের মৃত্যুতে পঞ্চগড়ে শোকের ছায়া

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমিরউদ্দীন সরকারের মৃত্যুতে তাঁর জন্মভূমি পঞ্চগড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

তাঁর মৃত্যুর খবর পঞ্চগড়ে পৌঁছালে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের আবহ তৈরি হয়। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ এই প্রবীণ নেতার প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন।

ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পঞ্চগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। প্রবীণ এ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর ঘটনায় ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি।  জেলা বিএনপি কার্যালয়ে শোক বই খোলা হয়েছে। এদিকে পঞ্চগড়  জেলা বিএনপি উদ্যোগে রবিবার দুপুরে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় গোরস্থান সংলগ্ন মাঠে গায়াবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের বিপুল সকল মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এক শোকবার্তায় পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড় -২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, "জমিরউদ্দীন সরকার শুধু পঞ্চগড়েরই নন,পুরো বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন অঙ্গন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান পঞ্চগড়ের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে"।

এদিকে জমিরউদ্দীন সরকারের জন্মস্থান পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তেঁতুলিয়া এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিজ এলাকায়সহ পঞ্চগড়ে তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট'।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিনি ছিলেন এলাকার অভিভাবক, তাঁর চলে যাওয়া পঞ্চগড়বাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন পঞ্চগড়ের এই কৃতী সন্তান ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সফলভাবে অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০২ সালে তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, তাঁর বড় ছেলে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির বর্তমানে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় জানাজা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাতীয় সংসদ ভবনে মরহুমের দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জমিরউদ্দীন সরকার #সাবেক স্পিকার