দেশজুড়ে

বান্দরবানে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগে বাসিন্দারা

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে থাকা মানুষজন নিজ নিজ বাড়িতে ফিরলেও কাদামাটি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে লামায় পাহাড় ধসে ৫ জন এবং বাইশারীতে পানিতে ভেসে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২৬টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া হাজারো পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

দুর্গত মানুষের সহায়তায় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা নগদ অনুদান বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও কাদামাটি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় দুর্গত এলাকার মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

এদিকে সড়ক যোগাযোগ সচল করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলো থেকে মাটি ও উপড়ে পড়া গাছ অপসারণের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি ও আলীকদম সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের কারণে জেলা সদরের সঙ্গে এসব উপজেলার যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহ ধরে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বান্দরবানের সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা এবং ৩৪টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী অসংখ্য বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। একই সঙ্গে একাধিক স্থানে পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

                                        

পি/ডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বান্দরবান #বন্যা