দেশজুড়ে

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের ১০ বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার মামলায়  মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় দণ্ডিত আসামি মো. রুবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৯(৪)(খ) ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মো. সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত রুবেল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়,  ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ ভোরে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার সাগরিকা বাই লেনের মুরগি ফার্ম আলমতারা পুকুরপাড় এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশুটির মা চট্রগ্রামে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর বাবা কাজ করতেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায়।

২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকাল থেকে শিশুটির খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও সন্ধান না মেলায় সাত দিন পর,ওই বছরের ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন শিশুটির মা। বিচারক তার আবেদন শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২১ মার্চ বিকেলে শিশুটিকে বিড়ালছানা দেবে বলে ভ্যানে করে একটি ফাঁকা বাসায় নিয়ে যায় সবজি ব্যবসায়ী রুবেল।

ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে রুবেল শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে রুবেল তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু বিষয়টি জানাজানির ভয় থেকে রুবেল শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

তদন্ত নেমে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততা পেলে রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয় দিন পর মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটির একটি গেঞ্জি, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি কালো পায়জামা ও একটি গাঢ় নেভি ব্লু রঙের হিজাবও উদ্ধার করা হয়। পরে রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

আদালত মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আজ এই রায় দেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #চট্টগ্রাম #ধর্ষণ