বিনোদন

মোদির ঘোষণার পর মুখ খুললেন ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর এক ‘ইডিয়ট’

বিনোদন ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার কিছু সময়ের মধ্যেই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় প্রতিক্রিয়া জানান বলিউড অভিনেতা আর মাধবন। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র থ্রি ইডিয়টস-এ তিনি তিন বন্ধুর একজনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

সম্প্রতি ‘থ্রি ইডিয়টস’ চলচ্চিত্রকে ঘিরেও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল, ছবিতে আমির খান অভিনীত ‘ফুংসুখ ওয়াংডু’ চরিত্রটি লাদাখের উদ্ভাবক ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কয়েক দিন আগে আমির খান নিজেই সেই ধারণা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রটির অন্য দুই অভিনয়শিল্পী আর মাধবন ও শারমন জোশীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

অবশেষে  বৃহস্পতিবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মাধবন।

তিনি বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিক্ষার ওপর। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকার রয়েছে। ভারতের তরুণদের অসীম সম্ভাবনার ওপর তার সবসময় আস্থা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাধবন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার যে হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে, তা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তার বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করে এবং তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ভেঙে দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে সাহস না পায়।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যে ত্রুটিগুলো ঘটেছে, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও মর্যাদা আরও শক্তিশালী করবে— এমন প্রত্যাশাই তার।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাধবন বলেন, যারা আজ উদ্বিগ্ন, হতাশ বা নিরুৎসাহিত বোধ করছে, তারা যেন কোনোভাবেই আশা না হারায়। তাদের মেধা, অধ্যবসায় ও ব্যক্তিত্ব যেকোনো ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার চেয়েও শক্তিশালী। তাই কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের দৃঢ়তা ও সাহসের প্রশংসা করেন এই অভিনেতা। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যেন আন্দোলনকে নিজেদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে মত প্রকাশের অধিকারকে তিনি সম্মান জানান।

তবে মাধবনের এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, বিষয়টি নিয়ে তার আরও আগেই অবস্থান জানানো উচিত ছিল।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ককরোচ জনতা পার্টি #বিক্ষোভ #থ্রি ইডিয়টস #আর মাধবন #আমির খান