নেত্রকোনায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার (রিপন ভিডিও) বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (০৩ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া বাজারে ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গেল সপ্তাহে রাতে অভিযুক্ত রিপন মিয়া কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তিনি সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে পরদিন পালিয়ে ঢাকায় চলে যান। পরবর্তীতে এলাকার মাতব্বরদের আশ্বাসে তিনি গ্রামে ফিরে এসে সালিশ বৈঠকে অংশ নেন।
সালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ভুক্তভোগী পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে এবং অভিযুক্তকে এক সপ্তাহের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা তার মেয়ে ধর্ষণ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার ছোট বাচ্চা মেয়েটি সাথে রিপন পাশবিক কাজ করেছে। তবে সালিশ বৈঠকে ৫লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রিপন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নির্দোষ। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, তিনি কিশোরীর সঙ্গে মাত্র অল্প সময় কথা বলেছিলেন, এরপর স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটকে ভিডিও ধারণ করে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন।
সালিশে উপস্থিত আবুল হাসেম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ক্ষতির পূর্ণ প্রতিকার সম্ভব না হলেও তাদের সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএ//