সৌন্দর্য ধরে রাখতে সব সময় দামি প্রসাধনী কিংবা আধুনিক উপকরণের প্রয়োজন হয় না। একসময় নারীদের রূপচর্চার বড় অংশজুড়েই ছিল প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া নানা উপাদান। রান্নাঘর, বাগান কিংবা আশপাশের সহজলভ্য উপকরণ দিয়েই চলত ত্বক ও চুলের পরিচর্যা।
মধ্যপ্রাচ্যের সৌন্দর্যচর্চার ঐতিহ্যেও এমন অনেক প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার রয়েছে। সময়ের সঙ্গে প্রসাধনীর ধরন বদলালেও সেসব পুরোনো পদ্ধতির অনেকগুলো এখনো জনপ্রিয়। ত্বক ও চুলের যত্নে ঘরেই ব্যবহার করা যায় এমন কয়েকটি উপায় জেনে নেওয়া যাক।
কাদামাটি ও হলুদে ত্বকের পরিচর্যা
ত্বকের যত্নে কাদামাটি ও হলুদের ব্যবহার বহু পুরোনো। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় সহজ একটি ফেসপ্যাক। ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে পরিষ্কার রাখতে কাদামাটি সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে হলুদ ত্বকের যত্নে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
কাদামাটি না থাকলে মুলতানি মাটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মুখে ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে লাগিয়ে দেখে নেওয়া ভালো।
দুধ আর গোলাপের প্রশান্তিময় স্নান
দুধ ও গোলাপের ব্যবহার শুধু রূপচর্চায় নয়, প্রাচীন রাজকীয় সৌন্দর্যচর্চার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। দুধের সঙ্গে গোলাপের পাপড়ি বা নির্যাস মিশিয়ে গোসল করার প্রচলন ছিল বলে জানা যায়।
দুধে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে কোমল রাখতে সহায়তা করতে পারে। আর গোলাপের সুবাস এনে দিতে পারে সতেজতা ও প্রশান্তির অনুভূতি।
বাড়িতেও চাইলে এই আয়োজন করা যায়। গোসলের পানিতে দুধ ও গোলাপের পাপড়ি মিশিয়ে নিতে পারেন। চাইলে সারা শরীরে দুধ মেখে কিছুক্ষণ পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলাও যায়।
জবা ও হেনায় চুলের যত্ন
চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতেও প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। জবা ফুল ও হেনা বা মেহেন্দির মিশ্রণ চুলের পরিচর্যায় বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
জবা ফুল বেটে হেনার সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় চুলের প্রলেপ। কিছুক্ষণ চুলে রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুলে কন্ডিশনিংয়ের অনুভূতি পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি চুলকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর দেখাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।
ঠোঁট নরম রাখতে খেজুরের রস
মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি প্রাকৃতিক উপাদান হলো খেজুর। খেজুরের রস ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয়। শুষ্ক ঠোঁটে অল্প পরিমাণ খেজুরের রস লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
নিয়মিত যত্নের অংশ হিসেবে এটি ঠোঁটকে নরম ও মসৃণ রাখতেও কাজে আসতে পারে।
অবাঞ্ছিত রোম দূর করতে ‘হালাওয়া’
মধ্যপ্রাচ্যের সৌন্দর্যচর্চার সঙ্গে ‘হালাওয়া’ নামটি বেশ পরিচিত। চিনি, লেবুর রস ও পানি দিয়ে তৈরি এই মিশ্রণ ব্যবহার করা হয় শরীরের অবাঞ্ছিত রোম দূর করতে।
মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে রোম তুলে ফেলা হয়। এটি প্রাকৃতিক উপায়ে রোম দূর করার একটি পুরোনো পদ্ধতি। নিয়মিত ব্যবহারে রোমের ঘনত্ব কমতে পারে এবং ত্বকও তুলনামূলক কোমল থাকতে পারে।
প্রকৃতির কাছে ফিরুক রূপচর্চা
আধুনিক সৌন্দর্যচর্চায় নানা ধরনের প্রসাধনী যোগ হলেও প্রাকৃতিক উপাদানের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো কমেনি। বরং ঘরোয়া ও সহজ উপায়ে ত্বক-চুলের যত্ন নেওয়ার প্রবণতা নতুন করে জনপ্রিয় হচ্ছে।
তবে প্রাকৃতিক মানেই সবার ত্বক বা চুলের জন্য নিরাপদ—এমনটা নয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করাই ভালো।
এসি//