ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিজের ‘সবচেয়ে বড় শত্রু’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চললেও এখনো প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন দিতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনি জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর দুর্বল অবস্থানের কারণেই তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে দ্বিধায় রয়েছেন ট্রাম্প।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সম্প্রতি ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘বিবি আমার সবচেয়ে বড় শত্রু।’
গত মাসে ওয়াশিংটন সফরের সময় নেতানিয়াহুর নির্বাচনি অবস্থান সম্পর্কেও জানতে চান ট্রাম্প। তিনি জনমত জরিপে নেতানিয়াহু কেমন করছেন, তা জানতে চেয়েছিলেন। নেতানিয়াহু এ প্রশ্নের জবাব দিতে কিছুটা ইতস্তত করলে তার এক সহযোগী ট্রাম্পকে বলেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, তিনি জিতছেন।’
তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ইসরাইলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশারের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে আইজেনকোটের দলকে এগিয়েও থাকতে দেখা গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, ১২০ সদস্যের নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা প্রায় ৫০-এ নেমে আসতে পারে। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে পছন্দ করলেও তার সাম্প্রতিক কিছু নীতি ও সিদ্ধান্তে হতাশ। বিশেষ করে ইরান, লেবানন ও গাজা নিয়ে নেতানিয়াহুর অবস্থান ট্রাম্পকে বিরক্ত করেছে।

ট্রাম্প এখনো নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারণায় প্রকাশ্যে সমর্থন না দিলেও এ নিয়ে ইসরাইলের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের ঘনিষ্ঠরা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এর আগে জুনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ‘সম্ভবত’ নেতানিয়াহুকে সমর্থন করবেন। তবে একই সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী কারা হচ্ছেন, তা আগে দেখতে চান।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও টানাপোড়েনের খবর সামনে এসেছে। ইরান, লেবানন ও গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
গাজা ইস্যুতেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। গত মাসে ট্রাম্প গাজা নিয়ে তার শান্তি পরিকল্পনায় অগ্রগতির কথা জানিয়ে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব দেন।
তবে পরে নেতানিয়াহু জানান, হামাসের ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ’ না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না।
নেতানিয়াহু অবশ্য জানিয়েছেন, গাজা ও ইরান ইস্যুতে প্রয়োজন হলে ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও ইসরাইলের অবস্থান ধরে রাখতে তিনি প্রস্তুত।
এসি//